ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহভাজন ইউক্রেনপন্থি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের গলফ মাঠের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। হত্যাচেষ্টার সন্দেহভাজন একজন ইউক্রেনপন্থি কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। 

স্থানীয় সময় রোববার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকায় গুলির ঘটনার পর এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। সবকিছু বিবেচনায় মনে হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

গুলির ঘটনার পর ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে জানানো হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো গলফ মাঠের কাছে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় মাঠে খেলছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প যেখানে অবস্থান করছিলেন, তার কাছাকাছি গুলি চালানো হয়েছে। তবে তিনি নিরাপদে আছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গলফ মাঠের কাছে ঝোপঝাড়ের মধ্যে ছিলেন বন্দুকধারী। ট্রাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা ঝোপের ভেতরে তার বন্দুকের নল দেখতে পান। এরপর তারা অন্তত চারটি গুলি চালান। তখন ওই ব্যক্তি বন্দুক ফেলে গাড়িতে করে পালিয়ে যান।

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি ওই বন্দুকধারীর গাড়ি ও লাইসেন্স প্লেটের ছবি তুলে রাখেন। এরপর ফ্লোরিডার বিভিন্ন সংস্থার কাছে গাড়ির তথ্য পাঠিয়ে দেয়। সে তথ্যের ভিত্তিতে পাশের মার্টিন এলাকায় গাড়িটি থামিয়ে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মার্টিনের শেরিফ উইলিয়াম স্নাইডার বলেন, গ্রেপ্তারের সময় সন্দেহভাজন শান্ত ছিলেন এবং সামান্য আবেগ দেখান।

ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে এফবিআইসহ অন্যান্য সংস্থার তদন্তকারীরা। ছবি: সংগৃহীত।

আটককৃত সন্দেহভাজনের নাম রায়ান ওয়েসলি রুথ। বয়স ৫৮ বছর। তিনি একজন ইউক্রেনপন্থি কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রুথ বিদেশি যোদ্ধাদের ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগদানের জন্য নিয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন এবং কিয়েভেও গিয়েছিলেন। তবে তার কোনও সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না।

২০২৩ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে রুথ বলেছিলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই কিয়েভ গিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে আফগান সেনাদের মধ্যে সামরিক নিয়োগকারী খুঁজে বের করার জন্য, যারা তালেবান থেকে পালিয়ে এসেছিল।

রুথের অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলি থেকে জানা যায়। সিবিএস’র সূত্র অনুসারে, গোপন অস্ত্র বহনসহ তাকে অনেকগুলি অপরাধমূলক অপরাধের জন্য অভিযুক্ত এবং দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। 

তবে সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে কথা বলার সময় রুথের ছেলে তাকে প্রেমময় ও যত্নশীল বাবা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে, ঘটনার পর ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি আলেজান্দ্রো মায়োরকাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এবং অন্যান্য সুরক্ষিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা সিক্রেট সার্ভিসের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

গত ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে হত্যাচেষ্টার পর ট্রাম্পের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় রাজনৈতিক দলের রাজনীতিবিদরা এখন বলছেন, এটি যথেষ্ট নয়।

ঘটনার পর ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের বাসভবনের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছেন তার সমর্থকরা। এসময় তারা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারও ছিলো।