অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে জেসিন্ডা ও ক্লার্ক

করোনাকালে কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে গোটা বিশ্বের আলোচনায় থাকা নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন। নিজ দেশের নর্থ আইল্যান্ডে একেবারে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লার্ক গেফোর্ডকে বিয়ে করেন তিনি।

এই দম্পতি ২০২২ সালে গাঁটছড়া বাঁধতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জেসিন্ডা আরডার্নের সরকার দেশে আরোপিত কঠোর কোভিড বিধিনিষেধের সময় সেটি বাতিল হয়ে যায়। জেসিন্ডা-গেফোর্ড বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মাত্র হাতে গোনা কয়েক ডজন অতিথি, যারা সবাই তাদের খুব কাছে বন্ধু ও আত্মীয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, রাজধানী ওয়েলিংটন থেকে ৩১০ কিলোমিটার উত্তরের নর্থ আইল্যান্ডের হকস বের ক্রেগি রেঞ্জ উইনারিতে জেসিন্ডা আরডার্ন ও ক্লার্কের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এই দম্পতি এক দশক ধরে একসাথে আছেন এবং তাদের নেভ নামে পাঁচ বছরের একটি কন্যাও রয়েছে।

জেসিন্ডা আরডার্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে ডিজাইনার জুলিয়েট হোগানের তৈরি হাতির দাঁত বসানো একটি পোশাক পরেছিলেন। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড আরও জানিয়েছে, তার জুতা মাউন্ট মাউঙ্গানুই ডিজাইনার কেওস অ্যান্ড হারমনি থেকে। বিয়েতে আরডার্নকে তার সঙ্গীর পাশে সাদা ফুলের তোড়া হাতে দেখা যায়।
আর কন্যা নেভ তার বাবার সাথে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিল। দাদী লরেল আরডার্নের বিয়ের পোশাক থেকে তৈরি করা পোশাক পরেছিল নেভ।

বিয়েতে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবসহ ৫০ থেকে ৭৫ জন অতিথি ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্স ও বিরোধীদলীয় নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

jassinda1

৪৩ বছর বয়সী জেসিন্ডা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে ভয়াবহ প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর ওই ঘটনা বিশেষভাবে সামলে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্বের প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন তিনি।

দেশটির সংসদে দেওয়া শেষ বক্তৃতায় জেসিন্ডা ৪৭ বছরের বয়ফ্রেন্ড টিভি উপস্থাপক গাফোর্ডকে উদ্দেশ্য বলেছিলেন, চলো আমরা এখন বিয়ে করি। সেই কথাই তিনি রাখলেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি ফেলোশিপ করেছেন জেসিন্ডা আরডার্ন।

২০১৯ সালের মে মাসে বাগদান সম্পন্ন করেন জেসিন্ডা আরর্ডান ও ক্লার্ক গেফোর্ড। এরপর ২০২২ সালের শুরুর দিকে বিয়ে করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় করোনা মহামারি। সেই কারণে বিয়ে পিছিয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

jassinda2

জেসিন্ডার বয়স এখন ৪৩ আর ক্লার্কের বসয় ৪৭ বছর। ২০১৭ সাল থেকে গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান জেসিন্ডা। এমনকি পরিবারকে সময় দিতে সক্রিয় রাজনীতিকেও বিদায় জানিয়েছেন।