ফিনল্যান্ড-রাশিয়া সীমান্তের কাছে পুতিনের গোপন বাড়ি!

ফিনল্যান্ড-রাশিয়া সীমান্তের কাছে এবার ভ্লাদিমির পুতিনের গোপন বাড়ির সন্ধান মিলেছে। সম্প্রতি ডসিয়ার সেন্টার নামে একটি তদন্তমূলক ওয়েবসাইটে গোপন বাড়ির কথা জানানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী লাডোগা ন্যাশনাল পার্কে রুশ প্রেসিডেন্টের গোপন বাড়িটি রয়েছে বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২০ সালে ভ্লাদিমির পুতিনের গোপন একটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। মস্কো থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ভালদাই হ্রদে ভিলাটি অবস্থিত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে পুতিনের নতুন ভিলার সন্ধান পাওয়ার পরেই, তৈরি হয়েছিল জল্পনা।

এবার ফিনল্যান্ড-রুশ সীমান্তের কাছাকাছি ক্যারেলিয়ার লেক লাগোডা ন্যাশনাল পার্কে মিললো পুতিনের আরেকটি গোপন বাড়ির ঠিকানা। প্রতি বছর অন্তত একবার ফিনল্যান্ড-রুশ সীমান্তে অবস্থিত এই গোপন বাড়িতে আসেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই গোপন বাড়ির কাছেই আছে একটি হোটেল। সেটা পুতিনের বন্ধু ইউরি কোভালচুকের। রুশ প্রেসিডেন্টকে এই হোটেল থেকে খাবার সরবরাহ করা হয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সেই গোপন ঘাঁটিতে কী নেই? আত্মরক্ষার সমস্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে সেখানে।

ডসিয়ার সেন্টার পুতিনের এই আস্তানার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। মারজালাটি উপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা এক ম্যানসন। যার ভেতরে তিনটি আধুনিক বাড়ি। পাশেই দুটি হেলিপ্যাড, কয়েকটি ইয়ট পিয়ারস, একটি ট্রাউট খামার ও একটি গরুর খামার রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুতিন যখন এখানে আসেন তখন স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীর বদলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নেন ফেডারেল গার্ড সার্ভিস এফএসও। তখন এখানকার প্রবেশদ্বারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাছের দ্বীপগুলোতেও মানুষের যাতায়াতও সীমিত করা হয়।

এই প্রাসাদে ঢোকার পথ মাত্র দুটি। একটি নৌপথ। অন্যটি আকাশপথ। ডসিয়ার সাংবাদিক ইলিয়া রজডেসভেনস্কি বলেন, এখানে শুধু বিমানে নয় বরং ইয়টে করেও আসা যায়। তবে সেই বিমান বা ইয়ট ধ্বংস করার সব উপাদানই পুতিনের রয়েছে।

ইলিয়া আরও জানান, পুতিনের এই গোপন আস্তানায় একটি বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেমও আছে। যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তার সব বাসভবনই প্যান্টসির-এস এয়ান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ করা হয়েছে।