দীর্ঘ যুদ্ধে আতঙ্ক ভর করেছে ইউক্রেনীয়দের মনে

দুই বছর শেষে তৃতীয় বছরে পা দিয়েছে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ। এখনো এ যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। শুরুতে কিছুটা বীরত্ব দেখালেও যুদ্ধের তৃতীয় বছরে এসে অনেকটা ধীর হয়েছে ইউক্রেনীয় দর্প। এই যুদ্ধে সীমাহীন কষ্টে রয়েছে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত তারা।

দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলছে যুদ্ধ। নারীরা হয়েছেন বিধবা, বন্দী সন্তানদের মুক্তির অপেক্ষা বাড়ছে মা-বাবার। ক্লাসরুম খালি, শূন্য ফসলের মাঠ। তারপরও ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ থামার কোন লক্ষণ নেই। বাস্তুচ্যুতরা দিন কাটাচ্ছেন চরম ভোগান্তিতে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

ইউক্রেনীয়দের ভাষায়, যুদ্ধের আগে জীবনটা সাদামাটা আর সুখের ছিলো। আমার অনেক শখ ছিলো, বন্ধুবান্ধব ছিলো। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর আমি বন্ধুদের হারিয়েছি। কেউ কেউ মারা গেছে আর কেউ কেউ নিখোঁজ। দুই বছর পূর্ণ হওয়া যুদ্ধটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত।

লজুভটকা নামের গ্রামে নিজের পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে কবরস্থানে গিয়েছিলেন ইউক্রেনীয় নারী আনহেলিনা। সেখানে সমাহিত রয়েছে যুদ্ধে নিহত তার বাবা আর স্বামী। ২০২২ সালের শেষদিকে বাখমুতে যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তারা। জানান, ফ্রন্টলাইন থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরেও যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট।

ukrain
 
শুধু লজুভটকায় নয়, সমগ্র ইউক্রেনজুড়েই একই চিত্র দেখা যায়। যুদ্ধে ইউক্রেনের কতজন সেনা নিহত হয়েছে সে বিষয়ে কিয়েভ স্পষ্ট না করলেও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, অন্তত ১০ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। হতাহত ছাড়াও যুদ্ধ সাধারণ মানুষের জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ কারাগারে সামরিক আর বেসামরিক সহ অন্তত আট হাজার মানুষ বন্দী রয়েছে। বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে রাশিয়া তিন হাজার সেনাকে ছেড়ে দিলেও এখনো স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে হাজারো ইউক্রেনীয় পরিবার। এদেরই একজন টাটিয়ানা টেরলেটস্কা। কিয়েভে বন্দী সেনাদের মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, তারা আমাদের জন্য লড়াই করেছে। আমরাও তাদের জন্য লড়ছি। আমরা সরকারকে জানাতে এসেছি যে তাদেরও পরিবার আছে যারা তাদের অপেক্ষায় রয়েছে।

ukraine_missile

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের দুই বছরে দেশটির ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অন্তত ৬৫ লাখ অন্য দেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে। এছাড়া অন্তত ৩৭ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে দেশেই রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই যুদ্ধের ফল মানুষ কয়েক দশক ধরে ভোগ করবে। অবিলম্বে রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।