ডানপন্থী ও মুসলিমদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বললেন সুনাক

ব্রিটেনে অতি-ডানপন্থী ও ইসলামী চরমপন্থিরা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তারা গণতন্ত্রকে আক্রমণ করছে উল্লেখ করে এই ‘বিষ’ পরাজিত করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

রচডেল উপনির্বাচনে গাজার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং চরম ইহুদি-বিদ্বেষী বামপন্থি রাজনীতিবিদ জর্জ গ্যালোওয়ের জয়ের পরপরই সুনাক এই মন্তব্য করলেন। খবর বিবিসির।

ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্রিটেনে ফিলিস্তিনের পক্ষে নিয়মিত বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে। এতে চরম ক্ষুব্ধ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। এর মাঝেই এক ইহুদি-বিদ্বেষীর জয় তিনি মেনে নিতে পারছেন না। 

শুক্রবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে হঠাৎ এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তিনি। এ সময় চরমপন্থার বিরুদ্ধে নতুন ক্র্যাকডাউন ঘোষণা করেন সুনাক। যারা জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে তাদের মোকাবিলা করতে জনগণের প্রতি আবেদন জানান তিনি।

সুনাক বলেন, ‘গাজায় নাগরিকদের জীবন রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। কিন্তু নিষিদ্ধ গোষ্ঠী হামাসের সমর্থনকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।’ তিনি পুলিশকে এই পরিস্থিতির কঠোর হাতে মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।

গ্যালোওয়ের জয়ের সমালোচনা করে সুনাক বলেন, ‘কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাররা এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, যিনি গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলাকে গুরুত্ব দেন না। যেখানে ১১ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’

এর আগে গ্যালোওয়ের জয়কে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য একটি ‘অন্ধকার দিন’ হিসেবে নিন্দা করেন ব্রিটিশ ইহুদিদের বোর্ড অব ডেপুটিজ।  

সুনাক ঘোষণা করেন, মন্ত্রীরা সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য এখন থেকে আরও দ্বিগুণ কাজ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরমপন্থি কার্যকলাপ বন্ধের কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে ব্রিটেনের মূল্যবোধ ক্ষুন্ন করা যাদের উদ্দেশ্য, এমন লোকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বন্ধ করার ঘোষণাও দেন তিনি।

জর্জ গ্যালোওয়ে যুক্তরাজ্যের উত্তরের শহর রোচডেলে সংসদীয় উপনির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১২ হাজার ৩৩৫ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন। তিনি ইসরাইলকে সহায়তার জন্য কনজারভেটিভ ও লেবার- দুই দলকেই দায়ী করেন। 

এর আগে, গ্যালোওয়ে বলেছিলেন, ‘ইসরাইলের ইহুদিবাদী বর্ণবাদী রাষ্ট্রের’ অস্তিত্বের কোনো অধিকার নেই।

গাজায় আগ্রাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর সুনাক চরমপন্থি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এসেছে বলে দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে। ‘ইসলামী চরমপন্থি এবং অতি-ডানপন্থীরা একই চরমপন্থি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলেও দাবি করেন সুনাক।