সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার পাকিস্তানি কর্মীকে আটক করার পাশাপাশি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউ লাইনস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বহিষ্কৃত এসব কর্মীদের বড় একটি অংশ শিয়া মুসলিম। বহিষ্কার প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা ছক অনুসরণ করে করা হয়েছে। প্রথমে কর্মীদের আকস্মিক গ্রেপ্তার করা হয়, এরপর তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে বা আটক কেন্দ্রে স্থানান্তরের পর বিশেষ ফ্লাইটে তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বহিষ্কৃত এই প্রবাসীরা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির উপার্জিত অর্থ সাথে করে নিয়ে আসতে পারেননি। একজন শিয়া আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আটক শ্রমিকদের ব্যাংক থেকে তাদের জমানো টাকা তোলার কোনো সুযোগই দেয়া হয়নি। ফলে কয়েক দশকের প্রবাস জীবন শেষে রিক্ত হস্তে দেশে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে অনেকেই ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং তাদের পরিবারগুলোর ভরণপোষণের প্রধান উৎস ছিল। আকস্মিক এই গণ-ডিপোর্টেশনের ফলে কয়েক হাজার পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই গণ-গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে, কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে এভাবে ফেরত পাঠানোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা পাকিস্তান ও আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শ্রম-সম্পর্ককে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা তাদের পাওনা আদায় এবং এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবাসী শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
