ঘরে ফেরার অপেক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্রের ক্লান্ত মানুষরা

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে পাঁচটি দিন। শতাব্দীর অন্যতম মারাত্মক এই অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। ঘরছাড়াদের এক বিশাল অংশ এখন মাথা গুঁজেছেন বিভিন্ন ক্রীড়া কেন্দ্র ও অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে।

মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ভিইয়ামান্তা স্পোর্টস সেন্টারের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরটিতে বর্তমানে অন্তত ২৫০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন। সেখানে সারিবদ্ধ ফোল্ডিং বেড আর বাঙ্কের মাঝে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত তাঁদের জন্য হয়ে উঠেছে এক দুঃস্বপ্নের মতো।

France Wildfire 11
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৮৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা চেলো লোর্জ সিএনএনকে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, আমার বয়স ৮৮ বছর, আর পুরো জীবনে এই প্রথম আমি এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। গত বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তাঁকে এ পর্যন্ত তিনটি ভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়ে রাত কাটাতে হয়েছে।

লোর্জ আরও জানান, আগুনের তীব্রতায় তারা পরনের কাপড়টুকু ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে করে আনতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি শুধু আমার কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে করে আনতে পেরেছিলাম। বাতের ব্যথা ও পুরোনো কাঁধের চোটের ব্যথানাশক ওষুধের বাক্স হাতে দেখিয়ে শান্ত কিন্তু ভারাক্রান্ত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন এই বৃদ্ধা।

Wild Fire 05
আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত লোকজনের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। আলদিয়া দেল ফ্রেসনো থেকে গত বৃহস্পতিবার পালিয়ে আসা হুয়ান কাবরেরা নামের এক বাসিন্দা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এভাবে জীবনযাপন করা কারোরই পছন্দ নয়, কিন্তু আমাদের করারই বা কী আছে? পরিস্থিতি মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবে বহু মানুষ দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন এই আগুন নেভানোর জন্য।

অস্থায়ী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত পরিবারগুলো এখন সময়ের কাঁটা গুনে ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন। লোর্জের ভাষায়, কখনো তাঁরা মনকে শক্ত রাখছেন, আবার কখনোবা মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ছেন। তবে ক্লান্ত ও নিঃস্ব এই মানুষগুলোর সবার চোখেমুখে এখন কেবলই একটি প্রত্যাশা, পরিস্থিতির উন্নতি হোক এবং তাদের নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার অন্তত অনুমতিটুকু মিলুক।

তথ্যসূত্র: সিএনএন