ইউক্রেনজুড়ে রাতভর ৭০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৮০টিরও বেশি ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মশহরের কাছে চালানো এই হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে চারটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটেছে ক্রাইভি রিহ শহরের কাছের রাদুশনে এলাকায়। সেখানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি এক বিশাল পরিবারের আবাসিক বাড়িতে আঘাত হানলে ঘরবাড়ি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ৬ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সী দুই ছেলেসহ মোট ৬ জন প্রাণ হারান।
ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী কিয়েভে অগ্নিকাণ্ডে একজন এবং পোলতাভা শহরের পোস্টাল টার্মিনালে হামলায় আরও একজন নিহত হন।
অন্যদিকে, ক্রেমলিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ক্রাসনোয়ারস্কোয়ে গ্রাম, খারকিভের ইউরচেনকভ এবং সুমি অঞ্চলের মালা স্লোবোকা ও মগ্রিৎসিয়া—এই চারটি এলাকা এখন রুশ বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সীমান্তে 'বাফার জোন' তৈরির লক্ষ্যে সুমি অঞ্চলে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো।
ন্যাটো আকাশসীমা লঙ্ঘন ও পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র: এই ব্যাপক হামলার সময় রাশিয়া ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, ইউক্রেনে হামলার সময় একটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক নিশ্চিত করেছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি মাঠে পড়ে থাকা রহস্যময় বস্তুটি সম্ভবত একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র।
হামলার কয়েক দিন আগেই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করতে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এই বৈঠক ও সতর্কবার্তার পরপরই মস্কো তাদের সর্বাত্মক বিমান হামলা চালায়।
তথ্যসূত্র; আনাদোলু এজেন্সি ও বিবিসি