আমেরিকায় নাইন ইলিভেন সন্ত্রাসি হামলার পর থেকেই, আলোচনায় ওসামা বিন লাদেন। বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসি হামলা চালিয়ে ছিলো আফগানিস্তানভিক্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আল-কায়দা। আর এই গোষ্ঠিটির প্রধান ছিলেন সৌদি নাগরিক লাদেন, আফগানিস্তানে বসেই তিনি আল-কায়দাকে নেতৃত্ব দিতেন।
নাইন ইলেভেনের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’র নামে আফগানিস্তানে সামারিক আগ্রাসন চালানোর পাশাপাশি সেই সময়ের দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে উৎখাত করে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে পাকিস্তানে আত্মগোপনে থাকা লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
লাদেনের মৃত্যুর পর রটে যায়, লাদেন পুত্র হামজা বিন লাদেন আল-কায়েদাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাকেও হত্যার জন্য মিশনে নামে আমেরিকা। ওবামা বিন লাদেনকে হত্যার আট বছর পর ২০১৯ সালে লাদেনের পুত্র হামজা বিন লাদেনকেও খতম করার দাবি করে আমেরিকা। যদিও এনিয়ে কোন তথ্য দেয়নি দেশটি।
হামজা কি সত্যই মারা গেছেন, এমন প্রশ্ন নিয়েই এখন তুমুল চর্চা। একটি ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর জানিয়েছে, মৃত্যু হয়নি হামজার। তিনি জীবিত রয়েছেন এবং ভাই আবদুল্লাকে সঙ্গে নিয়ে আল কায়দার সংগঠন বৃদ্ধি করছেন। এবং পশ্চিমী দুনিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করছেন।
আত্মগোপনে থেকে হামজা এখন আল কায়দার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই খবর আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্বে আন্তর্জাতিক মহলে। বৃহস্পতিবার দি মিরর ইউএস দাবি করেছে, ভাই আব্দুল্লা বিন লাদেনের সঙ্গে যৌথভাবে আল কায়দা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রশিক্ষণ দিচ্ছে নতুন সঙ্গীদের। চলছে সন্ত্রাসবাদী কাজ চালানোর আলোচনাও।
সংবাদমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের উত্তরে ঘাঁটি গেড়েছে জঙ্গিরা। সেখানে ওই দুই ভাইকে ঘিরে রেখেছে ৪৫০ জন আফগান জঙ্গি। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ওই সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে খুব তাড়াতাড়ি পশ্চিমা দেশগুলিতে আঘাত হানতে চলেছে হামজার নেতৃত্বে আল কায়দা।
তালেবানবিরোধী সামরিক জোট ন্যাশনাল মোবিলাইজেশন ফ্রন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করে। তার পর থেকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আফগানিস্তান। দেশটি দারা আবদুল্লা খেল জেলায় আশ্রয় নিয়েছেন হামজা।
২০১১ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে নেভি সিলের অভিযানে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন। আল কায়দার প্রধানের মৃত্যুর খবর সুনিশ্চিত করে আমেরিকা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার ধ্বংসের মূল কারিগর ছিলেন লাদেন। এছাড়াও বহু সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছে আল-কায়েদা।
২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত নানা একাধিক অডিও বার্তা থেকে জানা যায়, সিরিয়ায় জঙ্গিদের জোট গড়ার কথা বলছে হামজা। তরুণদের ওসামার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য পশ্চিমী দেশগুলোর রাজধানীতে হামলা চালানোর বার্তা দিত ওসামা-পুত্র। তার মাথার দাম উঠেছিলো ১০ লক্ষ ডলার।
লাদেনের মৃত্যুর পর আল কায়দার প্রধানের দায়িত্ব পান আল জাওয়াগিরি। তাঁর সঙ্গে মিলে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল লাদেনের ছেলে। ২০১৯ সালে ড্রোন হামলায় মারা গেছেন হামজা এমনটাই দাবি হচ্ছিলো বিভিন্ন প্রতিবেদনে। যদিও এই নিয়ে পেন্টাগনের অফিসিয়াল কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি সে সময়।
কোথায় এবং কবে হামজার মৃত্যু হয়, তা জানায়নি পেন্টাগণ। কিন্তু দি মিররের এই খবর সামনে আসায় হামেজা যে জীবিত তাতে সিলমোহর পড়ল। সঙ্গে যে কোনও মুহূর্তে জঙ্গি হামলা হতে পারে এই আশঙ্কাও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।