সাবেক কাতারি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রিন্স চার্লসের বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে নেয়ার কথা প্রকাশ হওয়ার পর এবের তার সম্পর্কে আরেক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের পরিবারের কাছ থেকে এক মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান হিসেবে গ্রহণ করেছিলো প্রিন্স চার্লসের দাতব্য প্রতিষ্ঠান দ্য প্রিন্স অব ওয়েলস চ্যারিট্যাবল ফান্ড।
শনিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর দুই বছর পর ২০১৩ সালে এ অনুদান গ্রহণ করা হয়। অনুদান দিয়েছিলেন লাদেনের দুই সৎ ভাই বকর বিন লাদেন ও শফিক বিন লাদেন।
প্রিন্স চার্লসের বাসভবন ক্ল্যারেন্স হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, অনুদান নেয়ার ব্যাপারে 'যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে', এবং এ অর্থ গ্রহণের সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি ফান্ডের ট্রাস্টিদের ওপর। তারা বলছে, এ অনুদানের টাকা ব্যয় করা হয় বিভিন্ন দাতব্য কাজে।
দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি বিষয় প্রত্যাখ্যান করে তারা জানিয়েছে, এই অনুদানকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার সব চেষ্টা মিথ্যা।
১৯৯৪ সালে ওসামা বিন লাদেনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করে তার পরিবার। আল কায়েদার কর্মকাণ্ডের সাথে লাদেনের দুই সৎ ভাইয়ের কোনো যোগাযোগ ছিল এমন কোনো প্রমাণ নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ল্যারেন্স হাউজ ও ফান্ডের উপদেষ্টাদের আপত্তি উপেক্ষা করে ক্ল্যারেন্স হাউজে বসেই বকর ও শফিকের কাছ থেকে অর্থ নেন প্রিন্স চার্লস।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে জরুরী অবস্থার মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি
এ ব্যাপারে কোনো নিয়মনীতি ভঙ্গ করার প্রমাণ না থাকলেও, প্রিন্স অব ওয়েলসের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। লাদেনের দুই সৎ ভাইয়ের সাথে আল কায়েদার কোনো যোগসূত্র না থাকলেও তাদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া কেউ ভালো চোখে দেখবে না তা সহজেই অনুমেয়। তারপরও তিনি কেনো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়।
গত মাসেই এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক কাতারি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মোট আড়াই মিলিয়ন পাউন্ডের তিনটি অনুদান নিয়েছিলেন প্রিন্স চার্লস।
একাত্তর/এসজে
