মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ আর লাশের স্তূপ বাড়ছে, তখন কূটনৈতিক টেবিলে শুরু হয়েছে এক নয়া দাবার চাল। ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি জোটের মধ্যকার যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বসেছে এক হাই-ভোল্টেজ চতুর্দেশীয় বৈঠক, যেখানে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক টেবিলে বসেছেন শান্তির খোঁজে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের এই ‘আইনহীনতা’ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দারের সাথে এক ফোনালাপে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই নতুন দফার আগ্রাসনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইসহ শত শত বেসামরিক মানুষ ও সামরিক কমান্ডার শাহাদাত বরণ করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আতিথেয়তায় রোববারে শুরু হওয়া এই বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দিয়েছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য, কীভাবে ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমন করা যায়। ইসহাক দার পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর যে কোনো আঘাত ইসলামাবাদ কঠোরভাবে নিন্দা জানায়।
একদিকে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, অন্যদিকে তখন শান্তির এক ঝলক দেখা গেছে সমুদ্রপথে। ইসহাক দার সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ইরান একটি বড়সড় ‘শুভেচ্ছা বার্তা’ দিয়েছে। তেহরান রাজি হয়েছে, প্রতিদিন পাকিস্তানের পতাকাবাহী দুটি করে জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে। অর্থাৎ আরও ২০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। ইসহাক দার একে ‘শান্তির অগ্রদূত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় এক গভীর ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরাইলি শাসনগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার ‘দুষ্টু’ পরিকল্পনা করছে। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, আগ্রাসনকারীরা যেন কোনোভাবেই অন্য কোনো মুসলিম দেশে হামলা চালানোর জন্য প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে।
সহজ কথায়, একদিকে ইরান যখন পাল্টা আঘাতে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থে আঘাত হানছে, অন্যদিকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের এই ‘চতুর্দেশীয় ফর্মুলা’ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস আনতে পারে কি না, নাকি বারুদের স্তূপ আরও বড় হয়ে ওঠে!
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি ও ফারস নিউজ