আমেরিকা-ইসরাইল জোটকে ‘এপস্টাইন ফ্রন্ট’ বললো ইরান

গাজা অভিমুখে মানবিক সাহায্য নিয়ে যাওয়া ‘সুমুদ’ নৌবহরে ইসরাইলি বাহিনীর নগ্ন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নগর্ভ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ন্যাক্কারজনক অভিযানের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।

এক হুঙ্কার দিয়ে তারা জানিয়েছে, সুমুদ নৌবহরের যাত্রী এবং হরমুজ প্রণালীর প্রহরীরা খুব শিগগিরই তথাকথিত 'এপস্টাইন ফ্রন্ট'-এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে তুলবে।

ইসরাইলি দখলদার বাহিনী সদম্ভে ঘোষণা করেছে, গাজাগামী সুমুদ নৌবহরের জাহাজগুলো আটকে দেওয়ার অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে। তারা বহরের মোট ৫৮টি নৌযানের মধ্যে ২১টি ইতিমধ্যেই নিজেদের কবজায় নিয়েছে। বাকি জাহাজগুলোকে গতিপথ পরিবর্তন করার জন্য চরম হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে, অন্যথায় সেগুলোর ওপরও হামলা চালানো হবে। এই অভিযানে আটক হওয়া ১৭৫ জন অধিকারকর্মীকে জোরপূর্বক দখলকৃত ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সুমুদ নৌবহরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক পৃথক বিবৃতিতে এই হামলার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। মানবিক সাহায্য নিয়ে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর পাশে দাঁড়াতে যাওয়া এই বহরের ওপর ইসরাইলি বাহিনী যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন তারা ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল। এই অতর্কিত হামলায় অন্তত ৩১ জন অধিকারকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতদের এই তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শান্তিকামী মানুষ, যা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ দিয়েছে। জানা গেছে, আহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ৪ জন, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের ৩ জন এবং কানাডা, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, যুক্তরাজ্য, কলম্বিয়া ও জার্মানির ২ জন করে অধিকারকর্মী রয়েছেন। এছাড়া হাঙ্গেরি, ইউক্রেন, ফ্রান্স, পোল্যান্ড এবং পর্তুগালের একজন করে সদস্য ইসরায়েলি সেনাদের পাশবিকতার শিকার হয়েছেন।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে 'এপস্টাইন ফ্রন্ট' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে পশ্চিমা ও ইসরাইলি আধিপত্যবাদকে একহাত নেয়া হয়েছে। তাদের মতে, সুমুদ নৌবহরের ওপর এই আঘাত কেবল একদল অধিকারকর্মীর ওপর হামলা নয়, বরং এটি বিশ্ব মানবতার কণ্ঠরোধ করার এক ব্যর্থ চেষ্টা। হরমুজ প্রণালীর অতন্দ্র প্রহরীরা এই অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তা লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন- আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সমুদ্রের বুকে এই জলদস্যুতার কী বিচার করবে বিশ্ব সম্প্রদায়? নাকি মানবিক সাহায্যের এই আর্তনাদ ‘এপস্টাইন ফ্রন্ট’-এর দাপটে আবারও চাপা পড়ে যাবে? তেহরানের এই কড়া বার্তা এখন সেই আগ্নেয়গিরিরই পূর্বাভাস দিচ্ছে।