শপথের আগে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদীর উপহাস 

টানা তিনবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসকে ফের আক্রমণ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। এবার তিনি উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক সংগঠন ভবিষ্যৎ নিয়ে উপহাস করেছেন। 

গত তিন নির্বাচনের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি এবারই প্রথম একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই জোটসঙ্গী চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও নীতীশ কুমারের জেডিইউয়ের সমর্থনে রোববার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন। 

তবে শপথের আগে কংগ্রেসকে তিনি আক্রমণ করতে ভোলেননি বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোদী বলেছেন, কংগ্রেস আবারও ১০০ আসন অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এবার বিজেপি যত আসন পেয়েছে, কংগ্রেস গত তিন নির্বাচন মিলেও তার থেকে কম পেয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা আগেও পরাজিতও হয়নি, এবারও না। আর আমাদের মূল্যবোধ এমনই যে, বিজয়ের পর উন্মাদ হয়ে পরাজিতদের নিয়ে উপহাস করি না। সেই বিকৃতি আমাদের মধ্যে নেই। 

এরপরই কংগ্রেসের কম আসন পাওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উপহাস করেন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, কংগ্রেস আরও ১০ বছর পরেও ১০০ আসন পূর্ণ করতে পারবে না। 

‘আমরা যদি ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ফল যোগ করি, তাহলে দেখবো, এবার বিজেপি একাই যত আসন পেয়েছে, তিন নির্বাচন মিলেও কংগ্রেস ততটা পায়নি,’ যোগ করেন মোদী।  

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আগে ইন্ডিয়া ব্লক ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছিল, আর এখন ডুবত চলেছে দ্রুত গতিতে। 

india-parlament

এবারের লোকসভা নির্বাচনে ৩২৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৯ আসনে বিজয়ী কংগ্রেস। ইন্ডিয়া ব্লক পেয়েছে ২৩৪ আস। ২০১৪ সালে ৪৪ এবং ২০১৯ সালে ৫২ আসন পায় কংগ্রেস। 

গত দুই নির্বাচনের তুলনায় এবারের বেশ এগিয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু সেই তুলনায় পিছিয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৭২ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩০৩ আসন পেয়েছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় একাই। কিন্তু এবার পেয়েছে ২৪০ আসন। 

গত দুইবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠন করায় যে দাপট দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, এবার আর তা হচ্ছে না। মোদী হয়ে পড়েছেন নির্ভরশীল।

এদিকে রোববার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে হবে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি দ্রেীপদী মুর্মু শপথ পড়াবেন। আর এর মধ্য দিয়েই টানা তৃতীয়বার শপথ নিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন নরেন্দ্র মোদী।