তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটিয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপাতির বিজয়ের নেতৃত্বাধীন 'তামিলাগা ভেত্তরি কাজহাগাম' (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। একদিকে, দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকে’র হাত ছেড়ে কংগ্রেসের বিজয়-শিবিরে যোগদান, অন্যদিকে গদি রক্ষায় ডিএমকে’র ব্যর্থতা, সব মিলিয়ে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে এখন টানটান উত্তেজনা।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর, সরকার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের সঙ্গে দেখা করেছেন টিভিকে প্রধান বিজয় থালাপাতি। ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে থাকা বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে কংগ্রেসের সমর্থন। 
পঁচ আসন থাকা কংগ্রেস বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়কে সমর্থনের চিঠি দিয়েছে, যার ফলে বিজয়ের সমর্থন সংখ্যা এখন ১১২; বিজয় নিজে দুটি আসনে জেতায় একটি বাদ দিয়ে।
দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকে’র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস নেতা প্রবীণ চক্রবর্তী এবং কে সি বেণুগোপাল নিশ্চিত করেছেন, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার পর এই ‘কৌশলগত’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কংগ্রেস জানিয়েছে, এই জোট শুধু সরকার গঠনের জন্য নয়, বরং আগামী লোকসভা ও স্থানীয় নির্বাচনেও বজায় থাকবে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ডিএমকে মুখপাত্র সারাভানান আনাইদুরাই মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস তামিলনাড়ুর মানুষের পিঠে ছুরি মেরেছে এবং দুটি ক্যাবিনেট পদের লালসায় নিজের অস্তিত্ব ধ্বংস করছে।
বৃহম্পতিবার চেন্নাইয়ে বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেস নেতা প্রবীণ চক্রবর্তী জানান, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে কংগ্রেস একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে, জোটে এমন কোনো শক্তিকে রাখা যাবে না যারা সংবিধানের আদর্শে বিশ্বাসী নয়।
রাজ্যপাল এখনো বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তাই ম্যাজিক ফিগারের জন্য বাকি ছয় আসন নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে টিভিকে। গুঞ্জন রয়েছে, বিরোধী দল এআইএডিএমকে’র ৪৭ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বিজয়কে সমর্থন দিতে আগ্রহী।

এদিকে, ঘোড়া কেনাবেচা রুখতে বিজয় তাঁর দলের বিধায়কদের মামাল্লাপুরামের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে সরিয়ে নিয়েছেন। বামপন্থীদের চারটি আসন এবং ভিসিকের দুই আসন নিয়েও আলোচনা চলছে, যদিও বাম দলগুলো ৮ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
বিজেপি এই ঘটনাকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মৃত্যুঘণ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, কংগ্রেস যাদের সঙ্গে মিত্রতা করে তাদেরই প্রতারণা করে। ডিএমকের পর এবার হয়তো সমাজবাদী পার্টির পালা।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে’র দীর্ঘ কয়েক দশকের দ্বিমেরু আধিপত্য ভেঙে বিজয়ের এই উত্থান এক নতুন যুগের সূচনা করল। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। এখন সারা ভারতের নজর ৭ মে’র সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে, যখন রূপালি পর্দার নায়ক বাস্তবের প্রশাসনিক সিংহাসনে আসীন হবেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
