নবান্নে পদ্মফুল: কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী?

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ঐতিহাসিক ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করার পথে এগোতেই এখন দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দ থেকে কলকাতার রাজপথ, সবখানেই একটিই প্রশ্ন- কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? তৃণমূলের দাপুটে শাসন ভেঙে গেরুয়া শিবিরের এই সম্ভাব্য জয়ের কারিগর হিসেবে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে, সবার চেয়ে বেশি এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী।

suvendu chatterjee
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু। এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা ২০২০ সালে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে সরাসরি মমতাকে হারিয়ে তিনি যে ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ তৈরি করেন, গত পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা হিসেবে তা আরও সংহত করেছেন। শুভেন্দু বাংলার বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ।

Dilip Ghosh
২০১৬ সালে মাত্র ৩টি বিধায়ক থেকে ২০১৯ সালের লোকসভায় ১৮টি আসন, বাংলার বিজেপির এই উত্থানের অন্যতম কারিগর দিলীপ ঘোষ। আরএসএস আদর্শে পুষ্ট দিলীপ ঘোষের নিজস্ব এক বিশাল জনভিত্তি রয়েছে। সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক বাগ্মিতার কারণে তিনিও মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

Samik Bhattacharya
বিজেপির অন্দরে শমীক ভট্টাচার্যের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। আরএসএস’র দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অত্যন্ত আস্থাভাজন। পরিশীলিত ভাষা এবং বিতর্কহীন ভাবমূর্তির জন্য ‘ভদ্রলোক’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নামও সজোরে আলোচিত হচ্ছে।

Swapan Dasgupta
যদি বিজেপি কোনো শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী মুখকে সামনে রেখে বাংলার মসনদ সাজাতে চায়, তবে প্রাক্তন সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত হতে পারেন চমক। দিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলে তাঁর গভীর প্রভাব রয়েছে এবং নাগরিক সমাজের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।

যদিও নির্বাচনী ট্রেন্ডে বিজেপি অনেকখানি এগিয়ে, তবে দলের হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কার মাথায় রাজতিলক পরাবে, তা নিয়ে এখনও রহস্য বজায় রাখা হয়েছে। শুভেন্দুর লড়াকু মেজাজ নাকি শমীকের আদর্শিক অবস্থান, বাংলার গদিতে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তা জানতে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।