রাজনীতির তীব্র চুলচেরা বিশ্লেষণ আর কড়া বয়ানের গণ্ডি পেরিয়ে এক অন্য এক সোনিয়া গান্ধীকে দেখল বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইন্সটাগ্রামে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটাবার পরেই একেবারে স্মৃতিমধুর প্রেমে ডুব দিলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী।
জানালেন, ১৯৬৫ সালে কেমব্রিজের এক পুঁচকে গ্রিক রেস্তোরাঁয় কীভাবে প্রথম দর্শনেই তৎকালীন তরুণ রাজীব গান্ধীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলেন তিনি!
আসন্ন ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সোনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী 'বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ'। নিজের স্মৃতিকথার প্রথম ঝলক পাঠকদের সামনে তুলে ধরে সোনিয়া স্মৃতিচারণা করেন, কেমব্রিজের এক ছোট্ট গ্রিক রেস্তোরাঁয় শুরু হয়েছিল আমার ভালোবাসার সফর। রাজীব আর আমি মিলে তৈরি করেছিলাম ভালোবাসা, হাসি আর রাশি রাশি স্মৃতির এক সুন্দর পৃথিবী।
রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম দেখার সেই সোনালী দিনের কথা বলতে গিয়ে একেবারেই রোমান্টিক মেজাজে ধরা দেন সোনিয়া। কেমব্রিজের ‘দ্য ভার্সিটি’ নামের রেস্তোরাঁয় এক সাধারণ বন্ধুর মাধ্যমে রাজীবের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তাঁর। স্মৃতির পাতা উল্টে তিনি বলেন, প্রথমবার দেখেই আমার মনে হয়েছিল, আরে, এই মানুষটার সাথেই তো আমি থাকতে চাই! পরে অবশ্য জানতে পেরেছিলাম, রাজীবও প্রথম দেখাতেই একই অনুভূতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিল।
রাজীব গান্ধীর সেই রূপ আর স্বভাবের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার কথা স্বীকার করে সোনিয়া বলেন, রাজীব মানুষ হিসেবে তো ভীষণ সুন্দর দেখতে ছিলেনই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি নজর কেড়েছিল তাঁর নম্র ও অমায়িক ব্যবহার। ওই ভদ্র ও কোমল স্বভাবটাই আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। প্রথম দেখার সেই মুহূর্তটা আমি জীবনেও ভুলব না।
হঠাৎ করেই এই বয়সে এসে সোনিয়া গান্ধীর সামাজিক মাধ্যমে পা রাখা এবং বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে জড়িয়ে ধরে মিষ্টি মুখ করিয়ে বইয়ের প্রথম কপি উদযাপন করছেন তিনি।
আলফ্রেড এ নোফ এবং হার্পার কলিন্স প্রকাশিত ৫৪৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইতালিতে তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে কেমব্রিজে রাজীবের সঙ্গে প্রেম, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে ভারতীয় রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রে তাঁর নাটকীয় উত্থানের সব রোমাঞ্চকর কাহিনী উঠে আসবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি