ভারতের প্রধান বিরোধীদল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী এক বহুল আলোচিত মানহানি মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। সোমবার উত্তর প্রদেশের সুলতানপুর জেলার একটি স্থানীয় আদালত এই স্বস্তিদায়ক রায় ঘোষণা করেন বলে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সূত্রে জানা গেছে।
রায় ঘোষণার সময় ৫৬ বছর বয়সী রাহুল গান্ধী নিজে সুলতানপুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নেহরু-গান্ধী রাজনৈতিক রাজবংশের উত্তরসূরি ও ভারতের স্বাধীনতার পর অধিকাংশ সময় শাসন করা কংগ্রেস দলের এই শীর্ষ নেতা আদালত থেকে বের হওয়ার পরপরই বাইরে অপেক্ষারত সমর্থকেরা আনন্দে ফেটে পড়েন। তাঁরা বাজি ফাটিয়ে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবং দলীয় পতাকা উঁচিয়ে আদালতের এই রায়কে উদযাপন করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে এক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণাকালে রাহুল গান্ধী ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে হত্যার অভিযুক্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন। ওই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরের এক বিজেপি কর্মী রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সোমবার রাহুলকে এই অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন।
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে এই রায় এল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কের জেরে গঠিত একজোট বিরোধী শিবিরের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহুল গান্ধী।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নিজ রাজ্য গুজরাতের একটি আদালত ‘মোদী পদবি’ নিয়ে করা অন্য এক মানহানি মামলায় রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল, যার ফলে সাময়িকভাবে লোকসভায় নিজের সংসদ সদস্য পদও হারাতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সুলতানপুর আদালতের এই নতুন রায় রাহুল গান্ধী এবং পুরো কংগ্রেস শিবিরের জন্য এক বিরাট আইনি ও রাজনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স