ফুসফুস মানুষের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। এটিকে ভালো রাখতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যাবশ্যক। আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যখন ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তখন এটি ভালো রাখতে আরও বেশি পরিমাণে সতর্ক থাকা দরকার।
ফুসফুস ভালো রাখতে সবার আগেই আগে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। যারা ধূমপান করেন তাদের করোনা হলে ফুসফুসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। আর ধূমপান ছেড়ে দিলে তার চার সপ্তাহের মধ্যেই ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নতি চোখে পড়ে। তাই যারা অনেকদিন ধূমপান ছাড়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এখন খুব ভালো সময় এই অভ্যাসটি ত্যাগ করার।
দ্বিতীয় যেই জিনিসটি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো বাতাসের অবস্থা। আপনি যে এলাকায় বাস করেন সেখানকার বাতাস কি রকম তার উপর আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্য অনেকটা নির্ভর করবে।
ওই এলাকায় অনেক বেশি শিল্পকারখানা থাকলে বা বাতাসে ধুলাবালি ও সিসার পরিমাণ বেশি থাকলে তা ফুসফুসের ক্ষতি করে। তাই কোন কারণে এ রকম কোন এলাকায় গেলেও ভারি সুরক্ষাযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
আরেকটি যে বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো শরীরের ভঙ্গী। বসা, দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় ঝুঁকে থাকলে বা কুঁজো হয়ে থাকলে তা ফুসফুসের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সেজন্য সব সময় যতটা সম্ভব সোজা হয়ে বসা বা দাঁড়ানোর অভ্যাস করলে তা ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
ফুসফুস ভালো রাখতে নিয়মিত স্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা যেতে পারে। প্রতিদিন আট থেকে দশ মিনিট বিভিন্ন ধরনের স্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে তা ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও কিছু খাবার আছে যেগুলো ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। প্রথমটি হলো কাঁচা রসুন। প্রতিদিন ভাতের সাথে এক-দুই কোয়া কাঁচা রসুন খেলে তা ফুসফুসের উপকার করবে। তবে, কখনই এক থেকে দুই কোয়ার বেশি খাওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন: ত্বকের উপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব
দ্বিতীয়টি যে খাবারটি ফুসফুস ভালো রাখার জন্য জরুরি তা হলো তরল জাতীয় খাবার। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, ডাবের পানি, আদা চা, লেবু চা, মসলা চা ইত্যাদি খেতে হবে।
এর সাথে বেশি বেশি করে শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। যত বেশি রঙিন শাকসবজি ও ফল খাওয়া হবে ফুসফুস তত ভালো থাকবে কেননা এগুলোতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
সবশেষে, প্রতিদিন এক থেকে দেড় মিনিট জোরে জোরে হাসার চর্চা করতে হবে। অট্টহাসি ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
একাত্তর/এইচআরজি/আরবিএস