১৯৭৭ সালে নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশের দাবি

১৯৭৭ সালে কথিত বিদ্রোহ দমনের নামে চৌদ্দশ’র বেশি বিমান ও সেনা সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন শাসক জিয়াউর রহমানসহ জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। 

সেই সঙ্গে পহেলা ডিসেম্বরের মধ্যে নিহতদের তালিকা প্রকাশ ও কবরস্থান চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল আশ্বাস দিয়েছেন, সেই সময়ের ঘটনা তদন্ত করে বিচার করা হবে। 

১৯৭৭ সালে একটি জাপানি বিমান ছিনতাই করে ঢাকায় নিয়ে আসে জাপান রেড আর্মির সদস্যরা। পরে সেই সংকট মিটে গেলেও ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনা অভ্যুত্থানের অভিযোগে সামরিক আদালতে বিমান ও সেনাবাহিনীর ১,৪০০ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোরসহ বিভিন্ন কারাগারে এসব মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। 

৪৪ বছর ধরে এসব ঘটনার বিচার ও স্বজনদের কবরের খোঁজ করে আসছে হতভাগ্য পরিবারের সদস্যরা। তাই প্রিয়জনদের শেষ ঠিকানার খোঁজে সোমবার সকালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেন তারা। এ সময় জিয়াউর রহমানের মরনোত্তর বিচার দাবি করেন তারা। 

‘১৯৭৭ সালে খুনি জিয়ার গুম ষড়যন্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গ’ ব্যানারে ঘেরাও কর্মসূচিতে তারা বলেন, ‘আমাদের পিতারা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় তৎকালীন স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবে একটি অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেন। পরে তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে একদিনের সামরিক আদালতে বিচার করে সেই রাতেই ফাঁসি সম্পন্ন করেন ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর ও বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে’।

তারা অভিযোগ করেন, ‘রাতের আঁধারে কারফিউ দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হতো। কোনও প্রকার ধর্মীয় সৎকার ছাড়াই লাশগুলো ঢাকার আজিমপুর কবরস্থান, কুমিল্লার টিক্কারচর কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়া হতো। সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের নির্দেশে গঠিত বিশেষ সামরিক ট্রাইবুনালের কথিত বিচারে ফাঁসি হওয়া ১৯৩ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৪৩ জন এবং কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন সেনা ও বিমান বাহিনীর আড়াই হাজার সদস্য।’ 

আরও পড়ুন: ২০২২ সালে ব্যাংকে বন্ধ ২৪ দিন

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মন্ত্রী তার দপ্তরে আসলে, তিনি মন্ত্রণালয়য়ের নিচে তাদের কর্মসূচি স্থলে নামেন। নেমে তাদের কথা শোনেন।

পরে তিনি বলেন, ‘১৯৭৭ সালে ক্যু এর নামে গর্বিত সদস্যদের কোর্ট মার্শাল ও কোর্ট মার্শাল ছাড়াই বিনা বিচারে হত্যা করার করুণ কাহিনী আমরা শুনলাম। শুনে আমি ব্যক্তিগতভাবে আবেগে আপ্লুত। ফাঁসি দেওয়ার পর লাশটাও পরিবারের কাছে দেয়নি। ফাঁসি হয়েছে না গুম হয়েছে- কোনো তথ্যই বেশিরভাগ পরিবারের সদস্যদের জানা নেই’।

তাদের বিচার চাওয়ার দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা, যুদ্ধাপরাধী ও জেলা হত্যার বিচার হতে পারলে, বিমান বাহিনীর সদস্যদের হত্যার বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমি তাদের পরামর্শ দেই, তারা যদি তাদের বক্তব্য লিখিতভাবে দেন তবে কীভাবে বিচার হয়েছে, কী অভিযোগ ছিল, সেই সব কাগজপত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করবো। এরপর জাতির সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো’। 

তিনি আরো বলেন, ‘একটা তদন্ত কমিশন করে এর একটা বিচার হওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি গোচর করবো। তাকে অবহিত করবো। আইনানুগভাবে কী করা যায় তা দেখবো। ওনারা জিয়াউর রহমানের নাম বলছেন, তার দায়-দায়িত্ব কতটুকু ছিল, তিনি কী ভূমিকা পালন করেছেন তা খতিয়ে দেখা হবে’।

সংগঠনের সমন্বয়ক কামরুজ্জামান মিঞা লেলিন বলেন, ‘১৯৭৭ সালে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন আমরা তাদের তালিকা চাই। না হলে আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। এমনকি আমরা সবাইকে নিয়ে সাতদিনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।


একাত্তর/আরএইচ