বাঙালির বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে জাতীয় প্যারেড ময়দানে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বাঙালির এ উদযাপনে সঙ্গী হয়েছেন বন্ধু দেশ ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্যারেড ময়দানে।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শুরু হয়।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশের পাশাপাশি আটটি দেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা এ কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।
এবারের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজের কমান্ডার ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল শাহিনুল হক।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে অশ্বারোহী সজ্জিত মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে স্বাগত জানান। এর আগে ১০টা ২০ মিনিটে প্যারেড গ্রাউন্ডে আসেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আসেন সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও তিন বাহিনী প্রধানরা। এ সময় ভারতের রাষ্ট্রপতিকে সশস্ত্র সালাম দেয় সম্মিলিত বাহিনীর সদস্যরা। এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অভিবাদন মঞ্চে যান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ভিভিআইপি গ্যালারিতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি অভিবাদন মঞ্চে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে সশস্ত্র সালাম দেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
সশস্ত্র সালাম গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ খোলা জিপে প্যারেড গ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন। এসময় জীপে তার সঙ্গে ছিলেন প্যারেড কমান্ডার মেজর জেনারেল শাহিনুল হক।
প্যারেড পরিদর্শনের পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অভিবাদন মঞ্চে ফিরে আসেন। অভিবাদন মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: চালকের পিতা 'প্রভাবশালী' তাই দুর্ঘটনার মামলা নিচ্ছে না থানা
সুসজ্জিত বর্ণাঢ্য এই কুচকাওয়াজে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের সশস্ত্র সালামের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। সরকারের নানা উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে মোটর শোভাযাত্রা করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়।
বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার এভিয়েশন ইউনিট ফ্লাইপাস্ট করে রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানাবে। সব শেষে মনোজ্ঞ অ্যারোবেটিক শো প্রদর্শন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ।
একাত্তর/জো