ঢাকা নগরীতে গাড়ির ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত এক সাবেক বিজিবি সদস্যের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীর পুলিশ সার্জেন্ট মেয়ে বনানী থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিগত ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে মোড় ঘোরার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোরঞ্জন হাজং। এসময় একটি লাল রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ি এসে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পর মনোরঞ্জন হাজংকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে পুলিশ। দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দিয়ে বাস উল্টে দুই যাত্রী নিহত
মনোরঞ্জন হাজং গুলশানের একটি রেস্তোঁরায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। দুর্ঘটনার পরদিন তার ডান পায়ের গোড়ালি কেটে ফেলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু সংক্রমণ ছড়ালে পরে আবারও অস্ত্রপচার করে ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়। হৃদরোগের পাশাপাশি ডায়েবেটিস রয়েছে ষাটোর্ধ্ব মনোরঞ্জনের। এসব স্বাস্থ্য জটিলতা বিবেচনায় পরে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মনোরঞ্জনের একমাত্র মেয়ে ডিএমপি'র পুলিশ সার্জেন্ট মহুয়া হাজং অভিযোগ করেন, তার বাবাকে ধাক্কা দেওয়া লাল রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই গাড়িচালকের পিতা 'প্রভাবশালী' হওয়ায় থানা মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পরদিন অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে রেখে তিনি মামলা করতে বনানী থানায় যান বলে জানান সার্জেন্ট মহুয়া। এসময় থানার একজন পরিদর্শক তাকে বিষয়টি নিয়ে 'বেশি মাতামাতি করলে বিপদে পড়ে যাবা' বলেও সতর্ক করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সিনিয়র সহকর্মীর এমন কথা শোনার পর তিনি থানা থেকে চলে যান।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার ৫০ বছরে নানা সূচকে উন্নতি স্পষ্ট তবে বৈষম্য বড় প্রশ্ন
'যারা দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তারা সমঝোতা করতে চাচ্ছে, আকার-ইঙ্গিতে এটা বুঝতে পেরেছি' বলেন মহুয়া।
তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। দুই-তিন দিন পর পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপ করা হবে।
একাত্তর/জো
