‘জিসোমিয়া’ চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে ঢাকা-ওয়াশিংটন

সামরিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি ‘জিসোমিয়া’ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে ঢাকা ও ওয়াশিংটন। এক বছরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা শেষের চেষ্টা করবে দু’পক্ষই। অষ্টম নিরাপত্তা সংলাপ শেষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে স্টেট ডিপার্টমেন্টে হওয়া এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, র‍্যাবের কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এই নিরাপত্তা সংলাপ। বুধবার (৬ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয় এই বৈঠক।

অষ্টম এই নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি বনি জেনকিন্স।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, নবম বৈঠকের আগেই ‘জিসোমিয়া’ নিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে পরবর্তী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে র‍্যাবের কর্মকর্তাদের উপর দেয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তোলা হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আইনি প্রক্রিয়ার কারণেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সময়ের প্রয়োজন। তবে গত চার মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে আমেরিকা। যদিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এলিট ফোর্স র‍্যাব এরিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। ফলে গোটা বিষয়টি যেনো তাদের কাজে কোন নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সন্ত্রাসীরা যেনো তার সুযোগ না নেয়ার চেষ্টা করে, সেই দিকটিতেও খেয়াল রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।


আরও পড়ুন: পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারে উ. কোরিয়া: যুক্তরাষ্ট্র

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে জোড়ালো ভূমিকা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যকোন দেশে রোহিঙ্গাদেরকে পুনর্বাসন করানো যায় কিনা, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে দাবি মেনে নিতে মিয়ানমারের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, অন্যকোন দেশে পুনর্বাসনের মাধ্যমে খুব বেশি রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। ফলে তাদেরকে রাখাইনে পাঠানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে অ্যাকুইজিশন ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট বা আকসা-ও সই করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।


একাত্তর/আরএ