এখন থেকে লঞ্চ করে ভ্রমণের টিকিট পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদ দেখাতে হবে, তা না হলে টিকেট মিলবে না। এছাড়া লঞ্চের ঈদ যাত্রায় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে বেশি নেয়া যাবে না, আবার কম ভাড়ায় বেশি যাত্রীও নেয়া যাবে না।
রোববার (১০ এপ্রিল) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে স্টিমার, লঞ্চসহ জলযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যথাযথ কর্মপন্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঈদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বৈঠক হয়।
আসছে ঈদুল ফিতর, স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার প্রধান অবলম্বন লঞ্চ। প্রতিবছর ঈদে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী নেয় লঞ্চগুলো, তৈরি হয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এবার ঈদের লঞ্চ চলাচলে আগাম ব্যবস্থাপনায় নেমেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববারের বৈঠকে লঞ্চ মালিকসহ সকল পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ২৪ ঘণ্টাই চলবে লঞ্চ, তবে রাতে স্পিডবোট বন্ধ থাকবে। বৈঠকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংরক্ষণ করাসহ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, লঞ্চের টিকিট সংগ্রহের আগে বাধ্যতামূলকভাবে এনআইডির ফটোকপি জমা দিতে হবে। লঞ্চের কেবিন থেকে ডেক-যাত্রী যেখানেই বসুক না কেন, এনআইডি জমা দিয়ে নিতে হবে টিকিট। ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। ঈদের পরও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে স্থায়ীভাবে।
তিনি আরো বলেন, কেবিনে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে লঞ্চযাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখাতে হবে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদের জন্ম সনদের ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম নিবন্ধন সনদ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।
যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মন্তব্য্য করে তিনি বলেন, এ ছাড়া সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রী কারা তা জানা যায় না। তাই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা না মেনে মাছ ধরতে গিয়ে গুলিতে জেলে নিহত
অন্য সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাতে স্পিডবোট ও বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখা। ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরে পাঁচ দিন দিনে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখা। ঈদের আগে তিন দিন ও পরে তিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা।
এছাড়া সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ নব নদীবন্দর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনোভাবেই লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করা যাবে না। লঞ্চে অনুমোদিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা যাবে না। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতে গার্মেন্টস কর্মীদের পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদানের ব্যবস্থা করা।
একাত্তর/আরএ