জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর আবারও বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। চাল, ডাল, ডিম, সবজি, মাছ-মাংস- সব কিছুরই দাম বেড়ে গেছে এরই মধ্য।
যদিও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলামের দাবি, যতোটা বলা হচ্ছে সংকট ততোটা নেই। দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে।
এদিকে, ক্যাব চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলছেন, এভাবে তেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে। যে হারে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে তাতে জনজীবনে সংকট ঘনীভূত হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে আবারও অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। টিসিবির হিসেবেই গেলো তিন দিনে দাম বেড়েছে ১০টি পন্যের।
তেলের দামের প্রভাবে বস্তাপ্রতি চাল পরিবহনে খরচ বেড়েছে ৫ টাকা। অথচ সব রকম চালের দামই কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা।
শাক-সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বাজারের উর্ধ্বগতিতে ক্রেতা বিক্রেতা দুই পক্ষই বিপাকে।
তবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলছেন, যতোটা বলা হচ্ছে সঙ্কট ততোটা নয়। পর্যাপ্ত খাদ্য শস্য মজুত আছে। মানুষে না খেয়ে নেই। বরং মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
তবে দেশে সংকট রয়েছে স্বীকার করে তাজুল ইসলাম বলেন, সেই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। যেমনটা বাংলার মানুষ একাত্তরে করেছিলো।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক আলোচনায় সভায় তিনি আরও বলেন, বহু টাকা গেছে বিদেশে এবং তা ফিরিয়েও আনা হয়েছে। আইএমএফ থেকে আমরা মাঝে মাঝে ঋণ নেই এবং তা শোধ করে দেই। কোভিডের সময়ও নিয়েছি। এটা স্বাভাবিক বিষয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমার মনে হয় না দেশে কোনো সংকট আছে। কিছু কিছু যেগুলো আছে, সেগুলো আমরা সবাই মিলে মোকাবিলা করতে পারবো।
তিনি বলেন, সারাবিশ্বের প্রায় ২৫ ভাগ জ্বালানি আসে রাশিয়া থেকে। এখন সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বের সব থেকে বেশি জ্বালানি সরবরাহ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।
কিন্তু ভেনেজুয়েলার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল আনা সম্ভব নয়। আর তেল রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরব থেকে আমরা তেল সংগ্রহ করছি।
কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপও তাদের উপর নির্ভর হচ্ছে। সে কারণে থাকার কারণে একটা চাপ আমাদের উপরেও পড়ছে।
কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ২০০৬-০৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় বিদ্যুতের খুঁটি বেশি করার আকাঙ্ক্ষা ছিল বলে লোডশেডিং হতো বেশি। তখন আমরা যেখানে ছিলাম, এখনো যেন আমরা সেখানেই আছি।
তিনি আরও বলেন, মনে হচ্ছে সার্কেলটা পূর্ণ হচ্ছে। রেন্টাল আর কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোতে ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, অথচ সেখান থেকে কোনো বিদ্যুৎ সেভাবে পাওয়া যায় না। সরকারের উচিত বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন।
কোথায় গিয়ে থামতে হবে, সরকার সে বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়নি। ফলে আমাদের ওপর ভর্তুকির বৃহৎ দৈত্য ভর করেছে।
ক্যাব চেয়ারমান বলেন, সরকারের জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি না করে হয়তো উপায় ছিল না, তবে এতটা মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
তিনি আরো যোগ করেন, আমাদের দেশে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো অক্টোবর মাস। এই সময়ে যদি আমাদের মূল্যস্পৃতি যদি ডাবল ডিজিটে চলে যায়, তবে সেটা আমাদের জন্য খুব ভালো হবে না। মূল্য কমানো হবে এমন আশ্বাস না দিয়ে কমিয়ে ফেলা উচিৎ।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রিয়াজুল হক প্রমুখ।
একাত্তর/এআর