সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা আজ। প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা দেবীর আরাধনা হয়ে আসছে। সব বয়সের মানুষ এই পূজায় ধর্মীয় উপাচারসহ আনন্দ উদযাপন করলেও তরুণ বিদ্যার্থীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। মৌসুমের প্রথম ফোঁটা পলাশ ও তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বাসে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজিত হচ্ছেন এই বিদ্যাদেবী।
দেবী সরস্বতী বিদ্যাদায়িনী শ্বেত-শুভ্র বসনা। তার এক হাতে বীণা অন্য হাতে বেদপুস্তক। অর্থাৎ তিনি বীণাপাণি দেবী সরস্বতী। আর এ থেকেই বাণী অর্চনার প্রচলন।
সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস মতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দেশের বেশি ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এদিন নানা আয়োজনে বিদ্যাদেবী পূজিত হবেন। এই উৎসব ছাড়িয়ে যাবে পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে দেশের সবোর্চ্চ পর্যায় পর্যন্ত।
দেশে সরস্বতী পূজার সবচেয়ে বড়ো আয়োজনটি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে। হলটির খেলার মাঠ জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ আলাদাভাবে পূজার আয়োজন করে থাকে। তবে বিশেষ আকর্ষণ থাকে হলের পুকুরে চারুকলার সরস্বতী প্রতিমা। এদিন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জগন্নাথ হলে তিল ধারণের ঠাঁইও থাকেনা।
এদিন ধর্মীয় আচার ও অন্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে- পুষ্পাঞ্জলি, হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি ও আলোকসজ্জা।
এদিকে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
একাত্তর/এসি