করোনা টিকা না পেয়ে কাজ হারাতে বসেছেন কুয়েত থেকে আসা প্রায় ১৫ হাজার প্রবাসী। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজারসহ চার টিকা ছাড়া কাজে ফেরত যেতে পারবেন না তারা।
জনশক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন টিকা প্রাপ্তিতে প্রবাসীদের যে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেটি কার্যকর না করলে প্রবাসী আয়ের উপর তা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কিছু দেশে থাকা বাংলাদেশিরা কোয়ারেন্টাইনের শর্তে যেতে পারলেও, অনেক দেশেই টিকা ছাড়া প্রবাসীরা যেতে পারছে না। তেমনই একটি দেশ কুয়েত।
স্থানীয় নাগরিক ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সুরক্ষায় চারটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে কুয়েত সরকার। এর বাইরের অন্য টিকা নিয়ে দেশটিতে যাওয়া যাবে না।
যাদের বৈধ আকামা রয়েছে এবং যারা ফাইজার, অক্সফোর্ড, জনসন ও মডার্নার টিকা গ্রহণ করবেন, তাদের কুয়েত প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে।
বাংলাদেশে ছুটিতে থাকা কুয়েত প্রবাসীরা নিজ কর্মস্থলে ফেরত যেতে হলে অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে এই টিকা প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।
আর, টিকা না নিলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আকামা নবায়ন হবে না প্রবাসীদের। ফলে কাজ হারানোর ঝুঁকিতেও রয়েছেন সেখানে কর্মরত কর্মীরা।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা, রোববার সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে আবেদন জানালেন অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে টিকা দেয়ার জন্য।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতেও হাঁটু পানি!
শনিবার থেকে দেশে আবারো করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়ার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেখানে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার টিকা কর্মসূচিতে দেয়া হচ্ছে চীনের সিনোফার্মা ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের টিকা। যদিও ফাইজারের টিকার মূল কার্যকর শুরু হতে আরও কিছুদিন লাগবে।
জনশক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তারা সহজে টিকা পাচ্ছেন না। বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসাবেও উল্লেখ করেছেন তারা।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে গেল আড়াই মাসে এক লাখ নব্বই হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। যাদের অনেকেই আর কাজের জন্য বিদেশ যেতে পারছেন না।
একাত্তর/আরএ