ঢাকা-নারিতা ফ্লাইটকে লাভজনক করতে সব রকম উদ্যোগ নিয়েছে বিমান। কেবল ঢাকা থেকে নারিতা পর্যন্ত নয়; জাপানের ওসাকা পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা। এই ফ্লাইটকে যুক্ত করা হচ্ছে সিউলের সাথেও। বিমান বলছে, একই ফ্লাইট ব্যবহার করে যাত্রীরা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের দীর্ঘ পথও কমিয়ে আনতে পারবেন।
স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৭৯ সালে ঢাকা-টোকিও সরাসরি বিমান চালু হয়। পরে ২০০৬ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ হিসেবে বলা হয় এই রুটে ব্যাপক লোকসান গুনছিলো বিমান। যাতে বঞ্চিত হয়েছেন দুই দেশের বন্ধু প্রতিম জনগণ।
দীর্ঘ ১৭ বছর আবারও ঢাকা থেকে জাপানের পথে চালু হলো সরাসরি বিমান। বিমানের অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার প্রতি শুক্র, সোম ও বুধবার ঢাকা থেকে জাপানের নারিতায় যাবে। আর ফিরবে শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার।
এ সিদ্ধান্তে খুশি যাত্রীরা। সময় এবং কষ্ট কমবে বলে আশাবাদী তারা।
বিমানের এখন লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বাড়ানো। শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জাপানের সাথে নানা ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান। এই ফ্লাইট সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর দু’দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিমান যাত্রা।
নতুন ফ্লাইট চালুর ফলে যাত্রাপথে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। বাড়বে বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটগুলো নারিতাকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে খরচ বাঁচাতে পারবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শফিউল আজিম বলেন, আমরা কাজ করছি। সামনে খরচ কিছুটা কমতে পারে।
শুধু বাংলাদেশি যাত্রী নয়। যারা জাপানের ওসাকা যেতে চান তারাও একই ফ্লাইট ব্যবহার করতে পারবেন।
বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, আমার বিশ্বাস এই সরাসরি ফ্লাইট হওয়ায় আমাদের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এটি আমাদের দেশে জাপানি পর্যটক নেওয়ায়ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
জাপানে বাড়ছে বাংলাদেশের জনশক্তি ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। এই ফ্লাইটের কারণে বাড়বে পর্যটকও। তাই রুটটিতে যাত্রী খরায় পড়তে হবে না বিমানকে; এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।