কর্ণফুলীর বঙ্গবন্ধু টানেলে যান চলবে রোববার থেকে

২৮ অক্টোবর উদ্বোধন হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম টানেল। আর ২৯ তারিখ তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, টানেলটি চালু হলে কর্ণফুলী নদী পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র তিন মিনিট। গতি পাবে দেশের অর্থনীতি।

একে একে দেশের সব বড় প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। এরিমধ্যে পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের সুবিধা পেতে শুরু করেছে দেশের মানুষ।

২৮ অক্টোবর আরও একটি বড় প্রকল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে চট্টগ্রাম শহর ও আনোয়ারা উপজেলাকে যুক্ত করবে এই টানেল।

নদীর তলদেশে মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। পাশাপাশি সংযুক্ত করা হয়েছে দুটি টিউব। টানেলের বাইরে অ্যাপ্রোচ সড়ক থাকছে প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের পতেঙ্গা অংশ থেকে আনোয়ার অংশে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩ মিনিট। গাড়িতে এই ৩ মিনিটে তিন দশমিক ৩২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যাবে।

Bangabandhu-Tunnel1

এটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে প্রায় ৬ বছর। খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৬শ ৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এই টানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বনানীস্থ সেতুভবনে এক ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু টানেলের মাধ্যমে খুলবে বাণিজ্যের বহুমুখী নবদুয়ার।

তিনি জানান, ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেল উদ্বোধন করার পর আনোয়ারা প্রান্তে ইপিজেড এর মাঠে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। পরের দিন টানেলের ভেতরে শুরু হবে যান চলাচল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে আগলে রেখেছে যে কর্ণফুলী, তার বুক চিড়ে তৈরি ৩.৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ।

যার মধ্য দিয়ে খুলে যাবে বাণিজ্যের বহুমুখী নবদুয়ার। দেশের এ প্রবেশদ্বারে ব্যবসা বাণিজ্যের ভিত্তি আরও মজবুত করতে আলাদা শক্তি যোগাবে নবনির্মিত এ টানেল।
সেতুমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শহরের সাথে সাগর ও বিমানবন্দরেরও দূরত্ব কমে আসবে। যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলবে। অর্থনীতির গতিপথ আরও গতিশীল করতে এই টানেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন করাই এই টানেলটি নির্মাণের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এতে খরচ ও সময় বাঁচবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, টানেল নির্মাণকে ঘিরে চট্টগ্রাম শহরকে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ বা ‘এক নগর দুই শহর’ এর মডেলে গড়ে তোলা হবে।

Bangabandhu-Tunnel3

দৈনিক ১৭ হাজার ২৬০ ও বছরে ৭৬ লাখ যানবাহন চলাচল করতে পারবে এ পথে। নদীর মধ্যভাগে কর্ণফুলী সুড়ঙ্গ সড়কটি অবস্থান করবে মাটি থেকে ১৫০ ফুট গভীরে।

এর নির্মাণ কাজ শেষ করে চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)। এই সুড়ঙ্গটি কর্ণফুলী নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করবে।

চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।