তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা দৈনন্দিন কাজ করবেন। কিন্তু সেই কাজের রূপরেখা কী? আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। তাই মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা এমন কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে কিছু ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তফসিলের পর কমিশনের ক্ষমতা কী এবং সেই ক্ষমতার কতটুকু প্রয়োগ করতে পারে ইসি?
সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। এর মাধ্যমে কমিশনের ক্ষমতা নির্ধারণ করা আছে। তফসিল ঘোষণার পর সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি, প্রার্থিতা বাতিল, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে ভোটের ফল বাতিলের ক্ষমতাও আছে নির্বাচন কমিশনের।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের যে আচরণবিধি আছে, সে আচরণবিধি মানতে হবে।
তবে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলছেন,চাহিদা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা বা না করা হলে সেক্ষেত্রে কমিশন কী করতে পারে এ বিষয়ে আইনে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কী করবেন আমিও যেমন জানি না, নির্বাচন কমিশন জানে কিনা আমার সন্দেহ আছে। যারা মন্ত্রীসভার তারাও হয়তো জানেন না। এটা সঠিভাবে বলা যাচ্ছে না।
এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে বলেও মনে করেন এম সাখাওয়াত হোসেন। ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনের ব্যত্যয় হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সেখানে হস্তক্ষেপ করে।
সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে মন্ত্রী গেলেন। তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন তো মন্ত্রীর এসব করার কথা না। এটা করবেন না, ওটা করবেন না, নির্বাচন কমিশন বারবার বলবে না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশেও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা এবং এখতিয়ার উল্লেখ করা আছে। অনেকেই মনে করেন, আইনে যাই থাক না কেনো কমিশন কতোটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায় তার ওপরও অনেক কিছুই নির্ভর করে।