বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আর চড়া মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে ঘুরে দাঁড়াবে। একাত্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তার মতে, নিবার্চনী অনিশ্চয়তা কেটে গেলে বাড়বে প্রবাসী আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বেসরকারি ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড়ও বাড়বে।
দেশ বাজারের জিনিসপত্রের বাড়তি দাম। বিশ্ববাজারেও খাদ্য ও সেবার দাম আকাশ ছোঁয়া। ডলার সঙ্কটে ঋণপত্র খুলতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই অবস্থায় কেমন আছে অর্থনীতি?
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমরা যদি কৃষি উৎপাদন বলি, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারও উৎপাদন ভালো হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনডেক্স নিয়ে আমাদের হাতে যে তথ্য রয়েছে, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমরা মনে করি এ বছর প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ এর ওপরে থাকবে।

গভর্নরের মতে রিজার্ভ সংকট আর মূল্যস্ফীতি এখন বড় সমস্যা। তবে আছে সমাধানের পথও। সেই পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গভর্নর বলেন, দুইটা বিষয়ে আমরা চাপের মধ্যে আছি, একটা হলো মূল্যস্ফীতি আর আরেকটি ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য এখন যেটা করছি, সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফান্ডিং একদম বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের পলিসি রেট বাড়িয়েছি। আইএমএফের বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই মুহূর্তে আমাদের রিজার্ভ আছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। ইউএস ফেড: বলেছে, তারা ডিসেম্বর পর্যন্ত পলিসি রেট বাড়াবে না। যদি না বাড়ায় তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে, ইউএস ফেডের রেট আর বাড়বে না। আমরা ইন্টারেস্ট রেট দিয়ে ডলার এখানে আনতে পারবো।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় নিবার্চন এলেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে দূর হবে সেই অনিশ্চয়তা। গতি বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয়ে। সেই আশা গভর্নরের।
আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, নির্বাচনের পরে যখন নতুন সরকার গঠন হবে। মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। এখন যারা রপ্তানি করছেন তারা একটু ধীর প্রক্রিয়ায় করছেন। যখন তারা দেখবেন বাজার স্থিতিশীল হয়ে গেছে তখন তারা আরও দ্রুততার সাথে করবেন। আমি মনে করি বাজার ডিভ্যালু হওয়ার আর কোনো কারণ নেই।
দেশে আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রফতানি ও প্রবাসী আয়ের যে ব্যবধান; তা কমে এলেও বিদেশি বিনিয়োগ, ঋণ কম ছাড় হওয়ার প্রবণতা এখনও কমেনি বলছেন গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, এখানে যে এক্সচেঞ্জ রেট ডিফারেন্সিয়াল আর ইনফ্লেশন রেট ডিফারেন্সিয়াল যদি নেগেটিভ হয় তাহলে কিন্তু একটা ক্যাপিটাল ফ্লাইট হয়। আমাদের যেহেতু ইন্টারেস্ট রেট কম ছিলো এটা বাড়িয়েছি। আমাদের টাকা কিছুটা ওভার ভ্যালু ছিলো সেটা নমনীয় করে মার্কেট ভ্যালুর সমান করেছি।
ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাব। তবে পদক্ষেপগুলো কাজে দিলে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে খেলাপি ঋণ থেকে টাকা পাচার সব কিছুই।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে: বিজিএমইএ