নির্বাচনে সারাদেশে সেনা মোতায়েন: ইসি আনিছুর

অতীতের মতো এবারও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান।

সোমবার রাঙ্গামাটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আনিছুর বলেন, অতীতের সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়ন ছিলো। এবারও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা আছে এবং আমরা তা করবো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশেষ অঞ্চল হিসেবে সেখানে সেনাবাহিনী আগে থেকেই তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আনিছুর বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রেরও যেন অবৈধ ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনী কাজ করবে।’

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যা যা করণীয় নির্বাচন কমিশন তাই করবে বলেও মন্তব্য করেন আনিছুর রহমান।

গত ১৫ নভেম্বর আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদদের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি।

রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।

তফসিল ঘোষণার পর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলগুলো ভোটে অংশ নেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে।

কিন্তু তফসিল প্রত্যাখ্যান করে সরকার পতনের এক দাবিতে সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন থেকে বারবারই তাদের ভোটে ডাকা হলেও বিএনপি তাতে কান দিচ্ছে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি আনিছুর বলেন, নির্বাচনের পরিবেশে ঘাটতি আছে বলে আমাদের চোখে পড়ে না। আমরা যে প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছি তাতে সবকিছু ঠিক আছে।

‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা, সেটা হলো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বিষয়। আমরা তাদের বারবার ডেকেছি।’

ভোটে কে আসলো আর কে আসলো না তা নির্বাচন কমিশনের দেখার দেখার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ৪৪টি দল নিবন্ধিত আছে। নির্বাচনে অংশ নেবেন- সেজন্যই তারা নিবন্ধিত হয়েছেন। এখন কেউ যদি না আসে, আমাদের কিছু করার নাই।’

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে ইসি আনিছুর বলেন, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।

একইসঙ্গে অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন অপপ্রচার বা গুজব না ছড়াতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

এদিন ইসি আনিছুর রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।