শ্রমিকদের নানান সুযোগ-সুবিধা সুবিধা বাড়ানোসহ বেশকিছু সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৩’। গত ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে শ্রম আইনের বেশকিছু ক্ষেত্রে সংশোধনী এনে বিলটি পাশ হয়। বাড়ানো হয়েছে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ট্রেড ইউনিয়ন সুবিধা বাড়ানো।
সংশোধিত এই আইনে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ৮ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো মালিক তার প্রতিষ্ঠানে সজ্ঞানে কোনো নারীকে তার সন্তান প্রসবের পর ৬০ দিনের মধ্যে কোনো কাজ করাতে পারবেন না বা কোনো নারী ওই সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন না।
আগে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ২০ শতাংশ শ্রমিকের স্বাক্ষরযুক্ত বা তাদের সমর্থনসহ আবেদন প্রয়োজন হতো। সংশোধিত এই বিলে, সেটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এখন শ্রমিকের সংখ্যা যদি ৩ হাজারের কম হয়, তাহলে ২০ শতাংশের সমর্থন লাগবে। আর তিন হাজারের বেশি হলে সেটি ১৫ শতাংশ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে সেখানে তারা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারবেন। এ ছাড়া গ্রুপ অব কোম্পানি হলে ২০ শতাংশ শ্রমিক চাইলে ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে।
গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির (টিকফা) কাউন্সিল বৈঠক হয়। এতে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত শ্রম আইন পাশের নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া কারখানা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কথাও বলেছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ অনুযায়ী বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই, ২ নভেম্বর ২০২৩ জাতীয় সংসদে সংশোধিত শ্রম আইন পাশ হয়। এতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে ১০ শতাংশ শ্রমিক অংশগ্রহণের পরিবর্তে ১৫-২০ শতাংশ রাখা হয়।
সংসদে পাশ হওয়া শ্রম আইনের বিলটি সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু মুদ্রণজনিত ভুল থাকায় রাষ্ট্রপতি আইনটিতে সম্মতি না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি শর্ত
বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিয়ে আসছিলো।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের আশা ছিলো যে, সেখানে কোনো ধরনের ট্রেড ইউনিয়ন অনুমোদন দেওয়া হবে না।
কিন্তু এখন সে শর্ত উপেক্ষা করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিধান চালু করলে বিরূপ প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর। যে কারণে সরকার সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কোনো অধ্যায় যুক্ত করেনি সংশোধিত শ্রম আইনে।
সংশোধিত নতুন শ্রম আইনে যা আছে
ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়, একই মালিকের একই শিল্পের একাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠলেও সেটি একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে ধরা হবে। সেক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হবে একটি।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের সদস্যরা ইচ্ছে করলে, ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির মোট কর্মকর্তা ১০ শতাংশ নির্বাচন করতে পারবেন।
সংশোধিত আইনের বিলে বন্দর কর্তৃপক্ষে ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত কর্মচারীরা একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে। এই আইন প্রণয়নের সময় কোনো বন্দরে ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে সেখানে গঠন করতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক প্রসূতি তার মালিকের কাছ থেকে সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের আগে ২১ দিনসহ সর্বমোট ১২০ দিনের প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন এবং তার মালিক তাকে এই সুবিধা দিতে প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন। তবে কোনো প্রসূতি এই ধরনের সুবিধা পাবেন না, যদি তিনি তার মালিকের অধীন সন্তান প্রসবের আগে কমপক্ষে ৬ মাস কাজ না করে থাকেন।
সংশোধিত শ্রম আইনে শ্রমিক নিয়োগ, চিকিৎসা, ছুটিসহ নানা ইস্যুকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা, বিনোদন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে প্রতিবেদনের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতি, ধর্ম লিঙ্গ (প্রতিবন্ধী) নির্বিশেষে কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করা যাবে না।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর অসন্তোষ প্রকাশ
জাতীয় সংসদে শ্রম আইন (সংশোধন) বিল পাসের কঠোর সমালোচনা করেছেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতারা। তারা অভিযোগ করেছেন, ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক সভাকে (টিসিসি) পাশ কাটিয়ে এবং আইএলও কনভেনশনের শর্ত উপেক্ষা করে অগণতান্ত্রিকভাবে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।
বিল পাশের প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল- আইবিসি। বিবৃতিতে সংগঠনটি বলে- শ্রম আইনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ও বিয়োজন করার সর্বোচ্চ ফোরাম হচ্ছে টিসিসি (ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক সভা), যা সরকার, মালিক ও শ্রমিকের সমসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত। আইএলও কনভেনশন এবং বাংলাদেশ শ্রম আইনেও টিসিসিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ সেই টিসিসিকে পাশ কাটিয়ে এমনকি সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত শ্রম আইন সংশোধনী সাব কমিটির (৯ সদস্যবিশিষ্ট) মধ্যে আলোচনা শেষ না করেই মন্ত্রিপরিষদ সভায় উত্থাপন করে বিলটি পাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে, সমালোচনার পাশাপাশি শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন এই কাজ আইএলও, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ সরকারকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন করার অনুমতি দিয়ে আইন সংশোধন
গত ২৩ অক্টোবর, ২০২৩ জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (সংশোধন) বিল, ২০২৩ পাস হয়। আইনে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) আইন, ২০১০-এর ৩৪ নম্বর ধারা সংশোধন করে শ্রম আইন ২০০৬' এর শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আইনের বর্তমান ধারায়, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করা কিংবা ধর্মঘট আহ্বানের কোনো সুযোগ ছিলো না। বরং এতোদিন সেখানে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে কল্যাণ সমিতি করার বিধান ছিলো।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও – যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-র চাপে সরকার বিলটি সংশোধন করে।
অব্যাহত বৈদেশিক চাপের মুখে গত ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত আইএলও'র গভর্নিং বডির কাউন্সিলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ইপিজেডগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর করার অঙ্গীকার করেন।
সেপ্টেম্বর ‘২৩ ঢাকায় অনুষ্ঠিত সপ্তম যুক্তরাষ্ট্র- বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি (টিকফা) সংক্রান্ত পরিষদের বৈঠকে, ট্রেড ইউনিয়ন চালুর বিষয়টিকে এজেন্ডা হিসেবে রাখে যুক্তরাষ্ট্র।
ওই সভায়, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আইএলও'র গভর্নিং বডির কাউন্সিলের আগেই শ্রম আইন সংশোধন করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি তুলে ধরতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ইপিজেডে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করা কিংবা ধর্মঘট আহ্বানের সুযোগ সৃষ্টি হলেও দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলো- ইপিজেড আইন সংশোধন করেনি সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি শর্ত - বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের নিয়ে আসার পূর্বে শর্ত ছিল সেখানে কোনো ধরনের ট্রেড ইউনিয়ন অনুমোদন দেওয়া হবে না। কিন্তু এখন সে শর্ত উপেক্ষা করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিধান চালু করলে বিরূপ প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর।
শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন ও ধর্মঘট করার সুযোগ দিলে- ইপিজেডভূক্ত কারখানাগুলোতে শ্রমিক অস্থিরতা হতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন এসব অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা।
ট্রেড ইউনিয়নে ১৫ শতাংশ শ্রমিকের অংশ থাকছে
তিন হাজার পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করছে এমন কারখানা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ শতাংশ কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আরও বেশি সংখ্যক শ্রমিক কর্মরত প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ কর্মী যুক্ত থাকতে হবে। অন্যথায় ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না। এমন বিধান রেখে সংশোধিত শ্রম আইন-২০২৩ এর বিল সর্বশেষ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাশ হয়।
ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে আগের আইনে ৩০ শতাংশ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত থাকার বিধান ছিল। সেপ্টেম্বরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির (টিকফা) কাউন্সিল বৈঠক হয়। এতে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত শ্রম আইন পাশের নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া কারখানা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কথাও বলেছে দেশটি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শর্ত দেওয়া হয় যে শ্রম আইনের সংশোধন করলে বন্ধ ‘জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস’ বা জিএসপিসহ অন্যান্য সুবিধা চালু হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ অনুযায়ী বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই, ২৯ অক্টোবর জাতীয় সংসদে সংশোধিত শ্রম আইন পাশ হয়। এতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে ১০ শতাংশ শ্রমিক অংশগ্রহণের পরিবর্তে ১৫-২০ শতাংশ রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি শর্ত - বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের নিয়ে আসার পূর্বে শর্ত ছিল সেখানে কোনো ধরনের ট্রেড ইউনিয়ন অনুমোদন দেওয়া হবে না। কিন্তু এখন সে শর্ত উপেক্ষা করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিধান চালু করলে বিরূপ প্রভাব পড়বে বিদেশি নিয়োগকারীদের ওপর। যে কারণে সরকার সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কোনো অধ্যায় যুক্ত করেনি সংশোধিত শ্রম আইনে।