প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ব্যালট ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।
তিনি বলেছেন, প্রতীক বরাদ্দের পরপরই আমরা ৩০০টি আসন থেকে প্রার্থীদের তালিকা পেয়ে গিয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যালট পেপার প্রিন্টিংয়ের কাজ চলছে। তিনটি সরকারি প্রেসে ব্যালট মুদ্রণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, যেসব নির্বাচনী এলাকায় মামলা পেন্ডিং আছে, সেগুলো একটু পরে প্রিন্টিংয়ে যাবে। আমরা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যালট মুদ্রণ শেষ করতে চাই। সে আলোকে যেসব নির্বাচনী এলাকায় কোনো মামলা নেই, সেগুলো প্রথমে মুদ্রণ হবে।’
তিনি বলেন, যেগুলোতে মামলা রয়ে গেছে, যেমন- হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারে, অথবা কারও প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে, সেক্ষেত্রে আগে মুদ্রণ করলে পুনরায় মুদ্রণ করতে হতে পারে, ফলে আগেরগুলো বাতিল হয়ে যাবে। সেজন্য সেগুলো শেষে মুদ্রণ করা হবে।’
৪০টিরও বেশি আসনে মামলা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপার। এতোদিন আগের রাতে পাঠানো হতো।
এ সংক্রান্ত্র এক পরিপত্রে ইসি সোমবার পরিপত্রে বলা হয়েছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকালবেলা ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে। তবে দুর্গম, হাওড়, পার্বত্য, চর ও দ্বীপাঞ্চলে কখন ভোটের ব্যালট যাবে সেই সিদ্ধান্ত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক দেবনাথ বলেন, বিজি প্রেসের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যালট মুদ্রণের কাগজ কেনার জন্য তাদের ৩৩ কোটি টাকা আমরা দিয়েছি। এ পর্যন্ত এ পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যত ভোটার সংখ্যা তত ব্যালট ছাপা হবে। ২৫ ডিসেম্বরের পর জেলা পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ব্যালট পাঠানো হবে।
সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। নিরাপত্তার সঙ্গেই ব্যালটগুলো যাবে। আমরা সব নির্বাচনী সামগ্রী পেয়ে গেছি। স্ট্যাম্প আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে। নির্বাচনি আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি আছে, নির্বাচনি ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।