বনভূমি উজাড়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন প্রথম দিকে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানই বন ধ্বংস করে প্রকল্প বাস্তবায়নের করার চেষ্টা করে বলে স্বীকার করলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। বললেন, দখল হওয়া আড়াই লাখ একর বনভূমির মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিটাও উদ্ধার করা হবে বলে জানালেন মন্ত্রী।
সরকারি হিসেবে এক লাখ ৬০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই লাখ একর বনভূমি দখল করে রেখেছে। যেখানে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৩ হাজার ৯২৩ একর বনভূমি।
টাঙ্গাইলের মধুপুরের ৪৫ হাজার একর ও গাজীপুরে ভাওয়ালের প্রায় ১২ হাজার একর বনভূমি দখলে রেখেছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালীরা।
বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী স্বীকার করলেন, উন্নয়নের নামে দেদারসে বন উজার হচ্ছে। যা বিশ্বে এখন শীর্ষে। বন উজাড়ের কারণে প্রাণীরা বাসস্থান হারিয়ে লোকালয়ে আসছে, বাড়ছে এসব প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমিত ব্যাধি।
বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এখন বাংলাদেশে যে গতিতে বন উজাড় হচ্ছে সেটা পৃথিবীর একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। সুতরাং আমরা একটা চাচ্ছি বন সম্প্রসারণ, আরেকটা চাচ্ছি বন সংরক্ষণ। যেটা আছে সেটা শুধু সংরক্ষণ নয়, এ বনের এলাকা আরও কীভাবে আগামীতে বাড়ানো যায় সেটাও আমাদের চিন্তায় থাকবে।
তিনি বলেন, এখন উন্নয়নের সাথে আরেকটা শব্দ আমরা যোগ করেছি টেকসই উন্নয়ন। সুতরাং পরিবেশ এবং উন্নয়নের একটা ভারসাম্য থাকতে হবে। উন্নয়ন অবশ্যই আমাদের প্রয়োজন। তবে উন্নয়নের কারণে যেন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
পুরোনো বন উজার করে নতুন করে বনায়ন বাড়ানোর চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বন ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় জটিলতা বাড়ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অনেকেই বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য যদি গাছ কাটা পড়ে তাহলে আরেক জায়গায় আমরা ১০ হাজার গাছ লাগিয়ে দেবে। একটা বনের যখন একটা গাছ কাটা হয়, সেতাকে কেন্দ্র করে যে ইকোসিস্টেম, জীব বৈচিত্র্য সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
অবৈধ দখল থেকে প্রতিবছর কী পরিমাণ বনভূমি উদ্ধার করা হবে সেই লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হবে।