‘দ্বাদশ সংসদ হবে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে প্রাণবন্ত ও কার্যকর’

একাদশ জাতীয় সংসদের পাঁচ বছর পূর্তি হলো সোমবার। মঙ্গলবার যাত্রা শুরু করছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ।  মেয়াদপূর্তির আগেই বিএনপির সংসদ সদস্যরা ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।

দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ২২৩, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ৬২, জাতীয় পার্টির ১১, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ওয়ার্কার্স পার্টি আর কল্যাণ পার্টির এক জন করে সংসদ সদস্য আছেন।

একাদশ সংসদের যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর অধিবেশন শেষ হয়। সর্বশেষ ২৫তম অধিবেশনের ৯ কার্যদিবসসহ এই সংসদের মোট কার্যদিবস ছিল ২৭২টি। এর আগে দশম সংসদ ৪১০ কার্যদিবস ও নবম সংসদ ৪১৮ কার্যদিবস চলে।

করোনার কারণে মাত্র দেড় ঘণ্টায় একটি অধিবেশন শেষ করা হয়েছে, যা ছিলো দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম সংসদ অধিবেশন।

একাদশ সংসদের মেয়াদে ৩১ জন এমপির মারা যান। তারমধ্যে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। 

এবার অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে জাতিকে ‘প্রাণবন্ত ও কার্যকর’ সংসদ উপহার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। কেমন হবে সংসদ অধিবেশন সে নিয়ে একাত্তরের সাথে কথা বলেছেন ডেপুটি স্পিকার। 

একাত্তর: কেমন হবে ১১ সদস্যের বিরোধী দলের ভূমিকা? 

ডেপুটি স্পিকার: এবারের সংসদ অন্যবারের চেয়ে একটি ভিন্ন আকারে আমরা দেখতে পাচ্ছি। 

এবারের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু নতুনত্ব আছে স্বতন্ত্র। এর আগেও স্বতন্ত্র ছিলো কিন্তু এবারে ব্যাপক হারে স্বতন্ত্র সদস্য প্রার্থীরা বিভিন্ন দলের সাথে প্রতিযোগিতা করে মহান সংসদে এসে পৌঁছেছেন। এবারের সংসদ অন্যবারের চেয়ে বেশি সরব থাকবে। কারণ জাতীয় পার্টির ১১ জনের সাথে স্বতন্ত্র ৬২ জনও থাকবে আলোচনায়। সংসদ নেতা তাদের গঠনমূলক সমালোচনা করে ভূমিকা রাখতে বলেছেন। 

একাত্তর: কীভাবে স্বতন্ত্ররা ভূমিকা রাখবেন? 

ডেপুটি স্পিকার: রাষ্ট্রপরিচালনায় অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে সরকারি দলের সামনে দাঁড়িয়ে জোরালো ভাষায়  সমালোচনা করবেন স্বতন্ত্ররা। দলীয় সংসদ সদস্য না হওয়ায় ফ্লোর ক্রসিং এর বিষয়টিও প্রযোজ্য হবে না তাদের জন্য। রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে যে অনিয়ম হয়েছে বা হতে পারে সে বিষয়ে তারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখতে পারবে। এবারের সংসদ অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন আকারে হলেও সরব প্রাণবন্ত হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তারা সংসদে ভূমিকা রাখবেন। একই সাথে  মাদকসহ  যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি। 

একাত্তর: আপনাকে ধন্যবাদ।