দক্ষ বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গড়ে তুলছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দক্ষ বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গড়ে তুলতে এবং বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য দ্বিতীয় জাতীয় বন জরিপ করা হচ্ছে। এই জরিপের তথ্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে এবং বনজ সম্পদের ব্যবস্থাপনা আরও ভালোভাবে করতে আমাদের সাহায্য করবে।

রোববার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় বন জরিপের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বন ইনভেন্টরি বাংলাদেশের জাতীয় বন মনিটরিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠার জন্য অবিচ্ছেদ্য এবং বন জৈববস্তুপুঞ্জ এবং কার্বন ইনভেন্টরির প্রাথমিক তথ্য উৎস হবে। বাংলাদেশ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের ভেতর একটি সম্পূর্ণ জাতীয় বন ইনভেন্টরি পরিচালনা করা হয়। এবারের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পর্বে প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে৷

মন্ত্রী বলেন, পশুর নদীতে বারবার কেন কার্গো ডুবছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে সেদিকে নজর দিতে হবে। কার্গোগুলোর ফিটনেস ঠিক আছে কি-না তাও তাদের খোঁজ করে দেখতে হবে। এসব ঘটনায় বায়োডাইভার্সিটির ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়ছে সে বিষয়গুলো নৌমন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে কি পরিমান বন উজাড় হচ্ছে তার সঠিক তথ্য জানতে বন জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশে কোন বননীতি নেই। আমরা একটি খসড়া করেছি। এই কাজ করতে কি পরিমাণ বন উজাড় করা হচ্ছে তা জানা দরকার। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে শুধু বননীতি নয়, বন সংরক্ষণ আইনের খসড়াও করা হচ্ছে।

এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আবদুল্লাহ হারুন এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুফল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়।

অনুষ্ঠানে তিনটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ বন সংরক্ষক জাহিদ ইকবাল, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক দলের প্রধান ড. ডিকি সিমোরাংকির এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বাংলাদেশের জাতীয় আর্থ-সামাজিক পরামর্শক ড. নিখিল চাকমা।