জলদস্যুদের দিক থেকে সাড়া নেই, যোগাযোগের চেষ্টা চলছে

ভারত মহাসাগরে ছিনতাই হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর মালিক পক্ষ জলদস্যুদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বিপরীত দিক থেকে কোনো সাড়া পায়নি।

মালিকপক্ষ বলছে, তাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, জলদস্যুরা নিরাপদ এলাকায় যাওয়ার পর সাড়া দিতে পারে।

বুধবার জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিংয়ের মূল কোম্পানি কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম একাত্তরকে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জলদস্যুদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তাদের দিকে থেকে কোনো সাড়া পাইনি।

কয়লা বোঝাই করে মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন ‘এমভি আবদুল্লাহ’।

এরপর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সকালে জানান নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।

দুপুরে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই জলদস্যু কি সোমালিয়ার নাকি অন্য কোনো দেশের, তা সরাসরি বলা যাবে না। তবে অঞ্চলটি সোমালিয়ার মধ্যে।

জলদস্যুরা সোমালিয়ারই কিনা, সন্দেহ নৌ প্রতিমন্ত্রীর জলদস্যুরা সোমালিয়ারই কিনা, সন্দেহ নৌ প্রতিমন্ত্রীর

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকের মহাসাগরে কয়েকটি স্পিড বোট ও মাছ ধরার বড় নৌকা নিয়ে সশস্ত্র দস্যুরা জাহাজে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়। জিম্মি করে ফেলে এর ২৩ নাবিককে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেছেন, সেকেন্ড পার্টির মাধ্যমে সরকার যোগাযোগের চেষ্টা করছে।

দশ বছর আগে জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল কবির গ্রুপেরই জাহাজ ‘এমভি জাহান মনি’। নানা দর কষাকষি করে তিন মাস পর সেই জাহাজ ও জিম্মি নাবিকদের দেশে ফেরানো হয়েছিল সে সময়।

সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল বলেন, জলদস্যুদের একটি কৌশল হলো জাহাজ নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে সেফ জোন তৈরি করে। তারপর সেখান থেকে নিজেদের ডিমান্ড জানায়। এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো ডিমান্ড আমাদের জানায়নি।

জাজাহটির মালিকপ্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা বলেন, তাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় মুক্ত করা। তারপর জাহাজ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা।

জাহাজের ২৩ নাবিক এখন জলদস্যুদের হাতে জিম্মি। মুক্তিপণ না দিলে জলদস্যুরা তাদের একে একে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলেও স্বজনদের জানিয়েছেন নাবিকরা।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে মুক্তিপণের অর্থের একটি পরিমাণ বললেও মিজানুল ইসলাম বলেন, ওগুলো ভিত্তিহীন। জলদস্যুদের সঙ্গেতো কোনো যোগাযোগই হয়নি।