‘ডলার আর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতেই মূল্যস্ফীতি’

ডলার আর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিই মূল্যস্ফীতির মূল কারণ। আর এই মূল্যস্ফীতি কমাতে না পারলে অর্থনীতির চাকাকে পুরোপুরি সচল করা সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন পণ্যের দাম বেধে, বাজারে হানা দিয়ে কিংবা সুদের হার বাড়িয়ে-কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতি কমাতে গেলে জোগান বাড়াতে হবে। এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিলে এমন মন্তব্য করেন তারা।

এডিটরস গিল্ড সাপ্তাহিক আয়োজন গোলটেবিলে শনিবারের বিষয় ছিলো- ‘কিভাবে সচল হবে অর্থনীতির চাকা’। যার সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

এডিটরস গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ২০২১-২২ সাল থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভুগছে সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, তাদের ক্রয় ক্ষমতা নেমে গেছে। এমনকি মধ্যবিত্তের ওপরও মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মূল্যস্ফীতিই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। যার জন্য তারা দুষলেন, জোগানের ভুল তথ্য, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অক্ষমতাকে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার মনে করেন, মূল্যস্ফীতি ঠিকভাবে কমছে না, এটি আরো জোড়ালোভাবে কমা উচিত। সেই দেড় বছর আগে যেখানে ১০ শতাংশ ছিলো এখনো তা ৯ শতাংশের কাছাকাছিই রয়ে গেছে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান মনে করে নিতি নির্ধারক পর্যায়ে সমস্যা আছে। তাই মূল্যস্ফীতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, মূল্যস্ফীতি খুবই খারাপ অবস্থায় গেলো যেদিন সরকার ডিজেলের দামটাকে এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিলো।

সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বললেন, বাজারে হানা দিয়ে নয়, চাহিদার আর জোগান সমন্বয় হলেই কেবল বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

দুর্নীতিসহ আর্থিকখাতের নানা অসংগতিও সচল অর্থনীতির বাধা। অর্থনীতি বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, ইন্টারেস্ট রেট বাড়িয়ে দিয়ে ব্যাংকারদের সুবিধা ছাড়া আর কোনো লাভই হয়নি। এটা আমাদের মূল্যস্ফীতি ওপর নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট ফেলছে।

সিনিয়র সাংবাদিক মনজুর আহমেদ বলেন, আমরা খেলাপি লোন বেশি দেখি না, সেদিকে নজর দেয়া উচিত।

অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ মনে করেন, সবাই নিয়মের মধ্যে থাকলে অর্থ পাচারের মতো বিষয়গুলো কমিয়ে আনা সম্ভব।

করের আওতা না বাড়িয়ে উল্টো করদাতাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসাইনের।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আর্থিক খাতে সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আসবে না বলেও মত আলোচকদের।