ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া আসনে আগামী পাঁচ জুন ভোটগ্রহণ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে আপাতত ওই আসনে নির্বাচন হচ্ছে না।
আদালতে আবেদনের পক্ষে থাকা আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ২১ দিনের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আগামী রোববার থেকে নির্বাচনী পিটিশনের ওপর শুনানি হবে।
শৈলকুপা উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই গত ১৬ মার্চ ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়।
এরপর ভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী পাঁচ জুন এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলের শেষ সময় সাত মে।
মনোনয়নপত্র বাছাই ৯ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৬ মে। ১৭ মে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। পাঁচ জুন ব্যালটের মাধ্যমে এ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মো. নায়েব আলী জোয়ারদার। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শৈলকুপা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান।
গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শৈলকুপা থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হন প্রয়াত আব্দুল হাই। এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।
কিন্তু গত পহেলা ফেব্রুয়ারি এক ইলেকশন পিটিশনের শুনানি শেষে ইসির গেজেট স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ওই পিটিশনে, ভোটগ্রহণ ও গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ আনেন পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম দুলাল।
এদিন আদালতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, সাত জানুয়ারির নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া একটি শিটে ৪৯ শতাংশ ভোট গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম দুলাল সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন, দেখা যায়। কিন্তু পরে নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
তিনি বলেন, গত পহেলা ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিবাদীদের নোটিশ ইস্যু করে গেজেট স্থগিত করেন। পরে অবশ্য আপিল বিভাগ গেজেট স্থগিতের আদেশ স্থগিত করেন। এর মধ্যে আব্দুল হাই ইন্তেকাল করেন। এখন নিয়ম হচ্ছে বিজয়ী প্রার্থী মারা গেলে আবেদনকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করা। সেটা না করে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।