আইলার মতোই ‘হতে পারে’ রিমালের তাণ্ডব

পনের বছর আগে বাংলাদেশের উপকূল তছনছ করে দেশ প্রবল ঘূর্ণিঝড় আইলা। ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে ৫৯৭ কিলোমিটার বাঁধ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। টানা ১৫ ঘণ্টার ঝড় ও ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

ঘূর্ণিঝড় রিমালও আইলার মতো একই ক্যাটাগরির বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আইলার মত একই ক্যাটাগরির ঘূর্ণিঝড় রিমাল। তবে প্রত্যেকটি স্টর্ম বডিই আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে।

আবহাওয়া অফিস বলেছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে মোংলার নিকট দিয়ে ভারতের সাগর দ্বীপ ও খেপুপাড়া অতিক্রম করতে পারে রিমাল। এর নিম্নভাগ অতিক্রম অব্যাহত থাকবে।

পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার সময় বাতাসের গতিবেগ ৯০ থেকে ১২০ পর্যন্তই থাকবে। পটুয়াখালীতে দুপুরে ৭২ কিমি প্রতিঘন্টা বাতাস রেকর্ড হয়েছে। এখনো এর গতিপথ উত্তরমুখী। কেন্দ্র অতিক্রমের পর এর নিম্নভাগের প্রভাব থাকবে সারারাত। স্থলভাগে পুরোপুরি ওঠার এটি দুর্বল হয়ে স্থলচাপ আকারে থাকবে। এর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি হবে। দিনে গড়ে ২০০-৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। সামনে এগিয়ে আসার গতি ১৩ কিমি আর কেন্দ্রের গতি ৯০-১২০। ঢাকায় বৃষ্টি এবং বাতাস থাকবে রোববার রাত থেকে।

sundarban 1

পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল।

এদিকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে চার হাজার আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং এরি মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মহিবুর রহমান।