ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:০৭ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে দেশের সাত জেলায় ১৬ জনের মৃত্যুসহ বিধ্বস্ত হয়েছে উপকূল ও এর আশপাশে ১৯ জেলার প্রায় পৌনে দুই লাখ ঘরবাড়ি। ঝড়ে ঘর হারানো এই মানুষগুলোর জন্য আশার বাণী শোনালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের চিন্তার কিছু নেই। সরকার পাশে আছে, যাদের ঘর পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে, তাদের ঘর করে দেওয়া হবে। এছাড়া যাদের ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরও উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। 

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা, কক্সবাজারের ঈদগাঁও এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। 

একই সঙ্গে এদিন সারাদেশে গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে আরও ১৮ হাজার ৫৬৬টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়।  

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো–অর্ডিনেশন সেন্টারের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে খুলনা জেলায়। এই জেলায় ২০ হাজার ৭৬২টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। বাগেরহাটে বিধ্বস্ত হয়েছে ১০ হাজার ঘরবাড়ি। বাকিগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। এই ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া ১৯ জেলার প্রায় পৌনে দুই লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৩৩৮টি এবং আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৫২৮টি ঘরবাড়ি।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতির মুখে পড়ে উপকূল ও আশপাশের ১৯ জেলা। এগুলো হলো- সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও যশোর। এর মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, পটুয়াখালী,  ভোলা, চট্টগ্রাম ও পিরোজপুরে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তাদেরকে আমরা ঘর তৈরি করে দেবো। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো নির্মাণের উপকরণ দিয়ে সহায়তা করবো।

যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকে যেন ঘর নির্মাণ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা আমি করে দেব। এরইমধ্যে সেভাবে আমার প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রত্যেক এলাকা থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি। সে অনুযায়ী আমরা সহায়তা পাঠাবো।

ইতিমধ্যে যাদের ঘরে করে দেওয়া হয়েছে তাদের জীবন বদলে গেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার ঘর নিজেকেই যত্ন নিতে হবে। বিদ্যুৎ, পানির ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। প্রকৃতিক দুর্যোগ সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। 

এসময় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদেরও ঘরে করে দেওয়া হবে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

নানা উদ্যোগে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার কারণে তারা শুভ ফল পেতে শুরু করেছে। বিশ্বে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সঙ্কটের মধ্যেও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে, নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কোথাও দেশের মানুষ পিছিয়ে থাকবে না, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের মাধ্যমে উপকারভোগীদের ভাগ্য বদলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা যেমন জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছিলেন, আমিও তেমনি নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে উপস্থাপন করি। বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতেই হবে। 

এসময় দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথাও এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে। যে যতোটুকু পারেন উৎপাদন করুন। নিজের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করবো। কারো কাছে মাথা নিচু করে থাকবো না। যতোটুকু সম্পদ, ততোটুকু সঠিকভাবে কাজে লাগালে দেশের মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। 

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করার পর অবৈধভাবে ক্ষমতার দখলকারীরা এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে ব্যস্ত ছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তখন থেকেই ভূমিহীন মানুষদের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তখন বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তারপরও ভূমিহীন মানুষদের মধ্যে ঘর তৈরি করার জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প নিয়ে আমরা ঘর বানাতে শুরু করি।

২০০৮ সালের এই দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সেই দিনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সময়ের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিলো। ঢাকা শহরে ১৫ দিনের মধ্যে ২৫ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মহানগর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা তখনকার উদেষ্টার কাছে পৌঁছে দেয়। আজকের দিনে অর্থাৎ ১১ জুন আমি সেই বন্দিখানা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।

একাত্তর/এসি
ভবিষ্যতের তরুণ প্রজন্মই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে এখন থেকেই একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জনস্বাস্থ্যসম্মত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে যুবসমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন...
রাজধানীর আগারগাঁও অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আকস্মিক পরিদর্শনকালে নিজ কক্ষে বসা অবস্থায় এক চিকিৎসককে ধূমপান করতে দেখে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু...
ডেঙ্গু মহামারি রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজসহ দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এগিয়ে আসার আহ্বান...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদদলনে ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত...
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংঘটিত ভয়াবহ আগুনে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে।...
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে শুরু হয়েছে চরম চাঞ্চল্য ও অস্থিরতা! পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে রিয়াদগামী নিজেদের সব উড্ডয়ন বা ফ্লাইট এক ধাক্কায় অনির্দিষ্টকালের...
সুদূর চীনের হেনান শহর থেকে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে সোজা বাংলাদেশের মাদারীপুর সদর উপজেলার চাপাতলী গ্রামে হাজির হয়েছেন ওয়াং এরলিং নামের এক চীনা যুবক। উদ্দেশ্য একটাই, মন দেয়া-নেয়া হওয়া মাদারীপুরের...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর