কলকাতার নিউ টাউনে সঞ্জীভা গার্ডেনসের সেপটিক ট্যাংকে যে মাংসের টুকরা পাওয়া গেছে তা সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের কি না তা নিশ্চিত নয় বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ।
নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংসদ সদস্য আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডোরিনকে ভারতে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এমপি আনার হত্যাকাণ্ড তদন্তে ভারতের কলকাতা সফররত বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
হারুন বলেন, আমরা এখানকার সিআইডিকে অনুরোধ করেছিলাম যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানকার স্যুয়ারেজ লাইন পরীক্ষা করা দরকার। অপরাধীদের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছি তা ভিত্তিতে সিআইডির সঙ্গে কিছু জায়গা পরিদর্শন করেছি। সিআইডি আজ পরীক্ষা করে বেশ কিছু মাংসের টুকরা উদ্ধার করেছে। সেটা ফরেনসিক করা হবে। ডিএনএ টেস্ট করা হবে। এরপর বোঝা যাবে যাবে, যে মাংসের টুকরা পাওয়া গেছে তা মাননীয় সংসদ সদস্যের কি না।
ডিবিপ্রধান বলেন, তার মেয়ে ডোরিন কল করেছিলো। আমি তাকে বলেছি, সম্ভব হলে যেন সে আসে। সে হয়তো অল্প কয়েকদিনের মধ্যে চলে আসবে।
মঙ্গলবার কলকাতার উপকণ্ঠে নিউ টাউনে সঞ্জীভা গার্ডেনসে সেপটিক ট্যাংক থেকে বেশি কিছু মাংসের টুকরা উদ্ধার করে সেখানকার সিআইডি।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, তদন্ত করতে পারিপার্শ্বিক সাক্ষী দরকার। পুরো মরদেহ না পেলেও খণ্ডিত অংশ হলেও দরকার। আজ যেটা পাওয়া গেছে, সেটার ফরেনিসিক হবে। এখানে (ভারতে) ফরেনসিক আগেভাগে হয়। এমপি সাহেবের ভাই, মেয়ে আছে। ফরেনসিক হলে ডিএনএ টেস্ট হবে।
মরদেহ উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলমান থাকবে বলেও জানান বাংলাদেশের এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মাংসের টুকরার সঙ্গে চুল পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ডিবি প্রধান হারুন।
কলকাতায় গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার ওরফে কসাই জিহাদ জানিয়েছেন, নিউ টাউনের সঞ্জীভা গার্ডেন্সের বাথরুমে টুকরো টুকরো করা হয় এমপি আনারের লাশ। পরে সেগুলো পলিথিনে ভরে ট্রলিতে করে নিয়ে পাবলিক টয়লেটসহ বিভিন্ন খালে ফেলে দেয়া হয়েছে।
মুম্বাই থেকে গ্রেপ্তার খুলনার বাসিন্দা কসাই জিহাদকে নিয়ে সোমবার খুনের ঘটনাস্থল কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনের ওই ফ্ল্যাট এবং একটি বর্জ্যখাল পরিদর্শন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এর আগে জিহাদকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন কলকাতায় থাকা ডিবির সদস্যরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিবির কর্মকর্তারা।
সোমবার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দল। এ সময় সঞ্জীভা গার্ডেনসের সেই ফ্ল্যাটে নেয়া হয় কলকাতায় গ্রেপ্তার কসাই জিহাদ হাওলাদারকে।
বাংলাদেশে গ্রেপ্তার তিনজনকে ভিডিও কলে যুক্ত করে জিহাদের সঙ্গে সামনাসামনি জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য উঠে আসে।
পরে কলকাতার গোয়েন্দা পুলিশকে সংসদ সদস্য আনারের দেহাংশের খোঁজে সঞ্জীভা গার্ডেনসের ফ্ল্যাটের কমোড, স্যুয়ারেজ লাইন ভেঙে সার্চ করার অনুরোধ জানান ডিবির হারুন। পাশাপাশি হাতিশালা লেকও সার্চের অনুরোধ করা হয়।
গত ১২ মে ঝিনাইদহর কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।
গত ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।
খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে হত্যার পর মরদেহ ফেলার কাজে অংশ নেয়া সিয়াম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ।
আর ঢাকায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি।