দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার সংসদে সভাপতি হিসেবে স্পিকারের চেয়ারে আসন গ্রহণ করে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদ সদস্যরা সংসদে এসেছেন এবং দেশের সেবা করার বড় দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সব সদস্যের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।
সাবেক এই মন্ত্রী তাকে ত্রয়োদশ সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সুযোগ দেওয়ায় সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ, ভাষা আন্দোলনের শহীদ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদেরও স্মরণ করেন এবং বলেন, তাদের ত্যাগ জাতিকে মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে অবিরাম অঙ্গীকারের প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অনেক বছর পর নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
তিনি সরকার গঠন করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেও তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তার বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাকে স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও স্মরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও কারাবরণ সত্ত্বেও গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রাম ও দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
মোশাররফ বলেন, নতুন সংসদের উচিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালী করা এবং মুক্তিযুদ্ধের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণ করে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করা।
আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা আজ শুরু হলো। আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে হট্টগোল, প্রথম অধিবেশনেই বিরোধী দলের ওয়াক আউট
এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ: প্রধানমন্ত্রী
সরকার ও বিরোধী দল সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে আশা স্পিকারের