শর্ত পূরণের পরও যুক্তরাষ্ট্রের অজুহাত: ফারুক খান 

বিমানের নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করা হলেও এখন সে দেশের কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান। 

বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সময় এ নিয়ে কথা দেয়া হয়, কিন্তু এখনও নিউইয়র্ক ফ্লাইটের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কোনো যোগ আছে কিনা তা অবশ্য পরিষ্কার নন তিনি। 

বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিমানবন্দরের নতুন তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন তিনি। 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যাটাগরি এক নম্বর না হওয়ায় কারণ দেখিয়ে গত কয়েকবছর ধরে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক ফ্লাইটের অনুমোদন আটকে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (এফএএ)। 

faruk khan

ফারুক খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্তপূরণ করার পরও নানা অজুহাতে দেশটির ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি নিউইয়র্ক ফ্লাইটের অনুমতি দিচ্ছে না। 

‘এর আগে বোয়িং কেনার সময় কথা ছিল যে, তারা এই অনুমতি দেবে। কিন্তু সেটি কেনো করছে না, তা জানি না। এর সাথে রাজনৈতিক কোন যোগ আছে কিনা আমার জানা নাই,’ বলেন তিনি। 

বিমান বাংলাদেশের বহরে রয়ে সুপরিসর দেহের দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার মতো উড়োজাহাজ। বিশেষ করে বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৮৭ সিরিজের বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ। ঢাকা থেকে টরেন্টোর মতো দীর্ঘ পথে ফ্লাইট চালাচ্ছে বিমান। 

এক সময় ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালাতো বিমান। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটে এই রুট বন্ধ করা হয়। নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর এফএএ নিরাপত্তাজনিত বেশকিছু পরিবর্তন আনে।

biman

সেখানে বলা হয়, যে বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কে ফ্লাইট যাবে, সেই বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি এক হতে হবে। বাংলাদেশকে ক্যাটাগরি দুইয়ে নামিয়ে দেয়  চিহ্নিত করে এফএএ।  

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের এ অবনমনের ফলে সে দেশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ হারায় বিমান। ক্যাটাগরি একয়ের মর্যাদা পেতে  বেশ কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চলছে। 

সেই চেষ্টারই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে ডজনখানেক নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজও কিনেছে বিমান। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। কিন্তু এখনো মেলেনি ক্যাটাগরি একয়ের মর্যাদা।