স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কী বললেন আনারকন্যা ডরিন?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কলকাতায় খুন হওয়া ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। 

বুধবার দুপুরের সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। 

ডরিন বলেন, আমি সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। কোনো চাপে পড়ে যেন আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচারের তদন্ত বন্ধ না হয়। 

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা ডিবির তদন্তে সন্তুষ্ট। তবে অনেক বড় বড় জায়গা থেকে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে তদবির করা হচ্ছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন সঠিক বিচারের। 

চাঞ্চল্যকর আনার হত্যাকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সাইদুল করিম মিন্টুকে আটক করার পরদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসব কথা বললেন আনারের বড় মেয়ে ডরিন। 

এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার বাবাকে আগেও হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। এর আগেও ঝিনাইদহের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আনার হত্যার বেনিফিশিয়ারি সন্দেহ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তার নাম বলেছিলেন ডরিন। 

এদিকে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য যে কোনো সময় ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান নিহত সংসদ সদস্যের কন্যা। এ জন্য সেদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

anar1

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গে যে মাংসের টুকরো ও হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতির জন্য আদালতে যাচ্ছে কলকাতা সিআইডি। ফরেনসিক প্রতিবেদনে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, এগুলো ‘মানুষেরই দেহাবশেষ’ এবং তা ‘পুরুষ মানুষের’।

গত ১২ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।

এরপর ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।

খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে হত্যার পর মরদেহ ফেলার কাজে অংশ নেয়া মুম্বাই থেকে ভাড়া করে আনা কসাই জিহাদকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। আরেক অভিযুক্ত নেপালে গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেনকেও হেফাজতে নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। 

আর ঢাকায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক চরমপন্থি নেতা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 

গ্রেপ্তার হওয়া ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। আর মঙ্গলবার আটক করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে। 

এদিকে এমপি আনারের মেয়ের সাথে সাক্ষাতের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা বাবার হত্যার বিচার চাইবে সেটাই স্বাভাবিক। তদন্তের আওতা থেকে কেউ যেন বের হয়ে যেতে না পারে সেই কথাই বলে গেছেন এমপি আনারের মেয়ে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, কোন চাপ নেই। যারা খুন করেছে তাদের খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব, সেটাই আমরা করছি।