জিহাদ-সিয়ামের জামিন নাকচ, পরের শুনানি ১৯ জুলাই

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত কসাই জিহাদ হাওলাদার ও সিয়াম হোসেনের জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের (জেল হেফাজত) নির্দেশ দিয়েছে বারাসাত আদালত। তাদের পরের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৯ জুলাই।  

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভঙ্কর বিশ্বাস এই আদেশ দেন। 

তবে এদিন অভিযুক্তদের কাউকেই আদালতে পাঠানো হয়নি। বর্তমানে তারা দমদমের কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। বিচারক সেখান থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আসামিদের বক্তব্য শোনেন এবং পরের হাজিরার দিন ধার্য করেন।  

গত ২৩ মে জিহাদকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। অন্যদিকে গত সাত জুন বনগাঁ এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। 

এ ব্যাপারে বারাসাত আদালতের আইনজীবী আসলামুজ্জামান সাহেব জানান, শুক্রবার সিজেএম আদালত অভিযুক্তদের বক্তব্য শোনেন এবং তাদের জামিনের আবেদন খারিজ করে পরে শুনানির দিন ধার্য করেন। 

এদিকে জিহাদ ও সিয়ামের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে আদালতে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তারা জবানবন্দি দেন। আপাতত সেই জবানবন্দি সিল বন্ধ-খামেই রয়েছে বলে জানান আইনজীবী।  

তিনি আরও জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় এই খুনের মামলায় সাক্ষী হিসাবে পিন্টু দাস এবং সঞ্জয় লোহিয়া নামে দুই ব্যক্তির বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বক্তব্যে তারা দুই জনই জানিয়েছে জিহাদকে যে ব্যক্তি ভারতের মুম্বাই থেকে নিয়ে এসেছিল তাকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, এই দুই সাক্ষী কারাগারে গিয়ে অভিযুক্ত জিহাদকেও শনাক্ত করেছে। 

গত ১৩ মে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনে এমপি আনারকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আখতারুজ্জামান শাহীনের নির্দেশেই এই হত্যা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

খুনের পর সেই লাশের টুকরোগুলোকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার ভাঙ্গড় ব্লকের কৃষ্ণমাটি খাল এলাকায় ফেলা হয়। পরে ওই খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু হাড় উদ্ধার করে সিআইডির কর্মকর্তারা। যা দেখে সিআইডি কর্মকর্তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান সেগুলি মানুষের হাড়। 

পাশাপাশি সঞ্জীবা গার্ডেনের ওই আবাসনের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় চার কেজি মাংস। উদ্ধার ওই মাংস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে।  প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ওই মাংসের টুকরোগুলো পুরুষ মানুষের। সিআইডির সূত্র বলছে, তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট আসেনি।  

সূত্রটি বলছে, মাংসের টুকরো গুলো এমপি আনারের কি না তা জানতে এবার ডিএনএ পরীক্ষা করবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সেজন্য আনারের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডোরিন কলকাতায় আসতে পারেন।

অপরদিকে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের দায়ে করা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আট আগস্ট দিন ধার্য করছে ঢাকার সিএমএম আদালত।

গত ১২ মে সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।