বোয়িং না এয়ারবাস, সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং নাকি ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস, কোন কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশ উজোড়াহাজ কিনবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান।

রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, আগামী এক দুই মাসের মধ্যেই বিমার কেয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। সরকার ১০টা বিমান কিনতে চায়, তবে আপাতত চারটা কেনা হবে।

‘পত্রিকায় সংবাদে যা আসে তা পড়ি। তবে সিদ্ধান্ত নেইনি। বোয়িং না এয়ারবাস তা এখনও চূড়ান্ত না। তবে দেশের জন্য ভোলো হয় এমন সিদ্ধান্তই নেয়া হবে,’ যোগ করেন তিনি।

গত কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কিনে আসছে। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে বিমানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বোয়িং থেকে দশটি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়।

Biman-bangladesh

কিন্তু সম্প্রতি বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার জন্য ফ্রান্সের এয়ারবাসের প্রতি সরকারের আগ্রহ বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরের সময় এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

তবে বসে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। তারা বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বেচার জন্য তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে মার্কিন দূত ছাড়াও বোয়িংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকায় এসে বারবার বৈঠক করছেন।

ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, সরকার নতুন বিমান কিনতে চায়। কবে বাংলাদেশের ক্রয় সংক্রান্ত নিয়ম কানুন অনুযায়ী কেনাকাটা হবে। এ নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি কাজ করছে।

বোয়িং ও এয়ারবাসের দ্বৈরথ নিয়ে তিনি বলেন, এর আগে আমেরিকার ও ইউরোপিয়ান দুটি কোম্পানির মধ্য এতো প্রতিযোগিতা দেখিনি।

পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, বোয়িং নিয়ে কথা হয়েছে। বলেছি, এখন পর্যবেক্ষণ চলছে। মূল্যায়ন কমিটি যাদের কথা বলবে, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে বোয়িং কেনা বা না কেনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন ফারুক খান।