বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা

সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতে বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা শুরু করেছে কোটা সংস্কারের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এ পদযাত্রা শুরু হয়। একইসঙ্গে আন্দোলনে থাকা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও গণপদযাত্রা করছে।

রাজধানীতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ-মৎস্যভবন-প্রেসক্লাব হয়ে বঙ্গভবনে যাবেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন তারা।

রাজধানীর বাইরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি জমা দিবেন।

এ সময় গণপদযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে সারাদেশে প্রায় ৫০টি জেলা থেকে থেকে স্মারকলিপি দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

podojatra1

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

এসময় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা কোথাও হামলা ও ভাঙচুর করেনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের সাঁজোয়া যানে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন পুলিশের ড্রাইভার খলিলুর রহমান।

এছাড়া রাজধানীর শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সময় টেলিভিশন। হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকের ওপর হামলা, গতিরোধ, ক্ষতিসাধন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মামলাটি দায়ের হয়।

কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র জারি করে সরকার। গত ৫ জুন সেই পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এর ফলে সরকারি চাকরিতে আগের কোটা পদ্ধতি ফিরে আসে।

এরপরই হাইকোর্টের আদেশ বাতিল এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ, দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করছেন তারা। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

এরইমধ্যে বুধবার হাইকোর্টের আদেশে এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছে আপিল বিভাগ।

কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তারা আগের মতোই অবরোধ-কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা এখন নতুন দাবি তুলেছেন যে, আদালত নয়, সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে।