কোটা নিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার ২৭ পৃষ্ঠার এ পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ে যা বলা হয়েছে

  • ২০১৮ সালে ১০ অক্টোবর জারি করা করা পরিপত্র আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত, অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হলো।
  • ২০১২ সালে হাইকোর্টের রায় যা ২০১৩ সালে আপিল বিভাগ কর্তুক অনুমোদিত সেই রায়ের আলোকে সরকারি চাকুরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও পৌত্রদের জন্য কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হলো।  
  • সেইসঙ্গে জেলা, নারী, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জন্য কোটা বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।
  • এই আদেশে পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হলো।
  • সরকার যদি কোটা বহাল রেখে এর পরিবর্তন বা কোটার সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটায় সেক্ষেত্রে এই রায় কোনো বাধা হবে না।
  • যদি কোটায় পদ পূরণ না হয় তাহলে মেধা তালিকা থেকে শূন্যপদে নিয়োগ দেয়ার স্বাধীনতা কর্তৃপক্ষের থাকবে।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট দায়ের করেন অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছরের ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

এরপর ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে গত ৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া এবং উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান চেম্বার কোর্টের অনুমতি নিয়ে একটি সিএমপি (হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে) আবেদন করেন। ওইদিনই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সেই আবেনের শুনানির জন্য ১০ জুলাই দিন ধার্য করেন চেম্বার আদালত।

সেদিন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিষয়ে চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

আগামী ৭ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সব প্রতিবাদী কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে নিজ নিজ কাজে অর্থাৎ পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে বলেন।

তিনি বলেন, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিয়ে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবেন বলে এ আদালত আশা করে।

আদালত আরও বলেন, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকারী ছাত্র-ছাত্রীরা চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য এ আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারে। আদালত মূল আবেদন নিষ্পত্তির সময় তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেবেন।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় রোববার তারা বঙ্গভবন অভিমুখে পদযাত্রা করেন। পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।