কোটা নিয়ে আদালত থেকে সমাধান না আসলে কিছু করার নেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা নিয়ে আদালত থেকে সমাধান না আসেলে সরকারের কিছু করার নেই।

তিনি আরও বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পবে?

রোববার চীন সফর নিয়ে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রূপা প্রশ্ন করতে উঠে বলেন, কোটা আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ করে প্রতিনিয়ত অবমাননাকর বক্তব্য রাখা হচ্ছে। এই অবমাননা মুক্তিযোদ্ধারা সহ্য করতে পারছেন না। রাষ্ট্রের কিছু করনীয় আছে কি না?

প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, একবার এ ধরনের আন্দোলন, শুধু আন্দোলন না যে ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছিলো- আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ, মানুষকে আঘাত করা। কিছু জ্ঞানী-গুণী আছে একদম ঘরের মধ্যে বসে মিথ্যা আপপ্রচার রেকর্ড করে ছেড়ে দেওয়া। এ ধরনের সমস্ত দেখে আমি খুব বিরক্ত হয়ে যাই।

তখন এক পর্যায়ে বলি, কোটা বাদই দিয়ে দিলাম। উদ্দেশ্য ছিলো, আগে দেখ, কোটা বাদ দিলে কি অবস্থা হয়। বেশিদূর যাওয়া লাগবে না এবারই দেখেন। ফরেন সার্ভিসে মাত্র দুই মেয়ে চান্স পেয়েছে। পুলিশ সার্ভিসে মাত্র চারজন নারী চান্স পেয়েছে। নারী অধিকারের কথা বলি। সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।

এসময় মুক্তিযুদ্ধের পর নারীর ক্ষমতায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান বলেন, আমি যখন ক্ষমতায় আসি তখন বলেছিলাম যে ৩০ শতাংশ আছে। বা ২০ শতাংশ আছে। সেটা যদি পূরণ না হয়, যারা পরবর্তী থাকবে তালিকায় তাদের থেকে নিয়োগ হবে। সেটা আমরা শুরু করে দিয়েছিলাম। তারপরে যখন আন্দোলন শুরু হলো, সব বন্ধ করলাম। বন্ধ করার পর ফলাফলটা কী দাঁড়াচ্ছে। একটা জিনস আমি বুঝি না। আমাদের দেশের নারীরা কোনোদিন সচিব হবে ভাবেনি। ডিসি হবে ভাবেনি। এসপি হবে ভাবেনি। এমনকি কোথাও তাদের পদায়নও ছিলো না। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরে আমি প্রথম, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী প্লাস পুলিশে জাতির পিতা কিছু অফিসারকে চাকরি দিয়ে গিয়েছিলেন। প্রশাসনের নারীদের প্রথম সচিব আমি করি।  সমস্ত জায়গায় নারীদে;র যাতে অবস্থান থাকে সেটা আমরা নিশ্চিত করি।

আগের কোটা বিরোধী আন্দোলনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় যারা আন্দোলন করেছিলো তারমধ্যে অনেক মেয়েও ছিলো। তারা বলেছিলো, নারী কোটা চাই না। যিনি বলেছিলো নারী কেটা চাই না, মেধা দিয়ে চাকরি চাই। তিনি কি চাকরি পেয়েছে? সে কি বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছে? প্রিলিমিনারিতে জায়গা করতে পেরেছে? এই বড় কথা যদি না বলতো কোথাও না কোথাওতো চাকরিতো পেতো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সব এলাকাতো সমানভাবে উন্নত না। অনগ্রসর সম্প্রদায়ও আছে। সেসব এলাকার মানুষের কি কোনো অধিকার থাকবে না? সেই অধিকারের কথা বিবেচনা করেইতো প্রত্যেক জেলা থেকে যাতে চাকরি পায় সেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা...। আজকে যদি কোটা বন্ধ করে দেওয়ার পরে হিসাবটা নেন, ২৩ জেলায় একটা লোকও পুলিশে চাকরি পায়নি। ৪২ বিসিএসে বিশেষ ছিলো। ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছিলাম। মেডিকেল সেক্টরে মেয়েদের অংশগ্রহণ বেশি। অন্য জায়গায় পিছিয়ে থাকা। তাহলে লাভটা কী হলো! মুক্তিযোদ্ধারা মামলা করলো। আদালতের যখন কোনো রায় হয়, সেই রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাহী বিভাগের এই মুহূর্তে আমাদের কিছু করার নেই। কোর্টেরটা কোর্টেই সমাধান করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা আন্দোলন করছে, তারাতো আইন মানবে না, আদালত মানবে না। সংবিধান কী তা তারা চেনে না। সরকার কীভাবে চলে কোনো এ সম্পর্কে কোনো ধারণাই এদের নাই। কোনো জ্ঞানই নাই। হ্যাঁ, পড়াশোরা করছে, ভালো নম্বর পাচ্ছে, সেটা ঠিক আছে। ভবিষ্যতে এরাতো নেতৃত্ব দেবে। দেশটা চালাবে। এই ধারণাগুলি দরকার। সংবিধান কী বলে সেটা তাদের জানা উচিত। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালনা হয় সে সম্পর্কে কোনো কোনো ধারণা আছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত তাদের সুযোগ দিয়েছে। বলেছে, আপনারা আসেন, আর্গুমেন্ট করেন। তারা আদালতে যাক, বলুক। না, তারা রাজপথেই সমাধান করবে। আর আমাকে বলছে। আদালতে যখন চলে গেছে, তার যখন রায় হয়েছে, রায়েল বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে আমারতো দাঁড়ানোর কোনো অধিকার নেই। এরকম সংবিধানও বলে না। পার্লামেন্টও বলে না। কার্যপ্রণালি বিধিও বলে না। যতক্ষণ  পর্যন্ত আদালত থেকে সমাধান না আসবে আমাদের কোনো কিছু করার থাকে না। এটা বাস্তবতা। এই বাস্তবতা তাদের মানতে হবে। যদি না মানে কিছু করার নেই। রাজপথে আন্দোলন করতেই থাকবে।

তিনি বলেন, তবে, কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করতে পারবে না। যতক্ষণ তারা শান্তিপূররণ করে যাচ্ছে, করে যাচ্ছে। কেউ কিছু বলছে না। এর বাইরে যখন কিছু করবে, পুলিশের গায়ে হাত দেওয়া বা পুলিশের গাড়ি ভাঙা, এগুলো যদি করতে যায় তখন আইন আপন গতিতে চলবে।

কেএসএইচ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী থেকে জেলা শহর, মহল্লা থেকে বাড়ির ছাদ পর্যন্ত। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এক পর্যায়ে রূপ নেয় রাষ্ট্রীয়...
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। 
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে বলেছেন, তিনি ও সালমান এফ রহমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। 
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ঘটনায় মৃত্যু, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তদন্তে হাই কোর্ট বিভাগের তিন...
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. সেলিনা হায়াত আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা আট মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধায় আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় মা-ছেলে ও এক কিশোরসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা দুটিতে আলাদা বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ করায় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার...
বরগুনা জেলা পরিষদের সদর ডাকবাংলোর তিনতলার দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহগুলো...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর